হঠাৎ এল ফিরে – ( পঞ্চম পর্ব) – ছন্নছাড়া।

………….. বিছানা থেকে উঠে টেবিলের কাছে গেল রঞ্জু। মনে তাঁর চঞ্চলতা। সবসময় সে দীপ্তময়। টেবিলের কাছে গিয়ে ফোনটা তুলে নিল সে দ্রুততার সঙ্গে। মুঠোফোনের লক খুলে সে হতাশ হল। ভেবেছিল দীপ্ত মেসেজ করেছে কিন্তু দেখল  ফোন কোম্পানির মেসেজ। মনে মনে বিরক্ত হল সে।

 “ফোন কোম্পানি গুলোর কোন সময় ঞ্জান নেই। যখন তখন মেসেজ পাঠিয়েই চলে।”  – বিড়বিড় করে বলল রঞ্জু।

   ফোনটা টেবিলের উপর রেখে সে আবার বিছানায় এসে বসল। বিছানা ঝেড়ে, মশারী টানিয়ে বিছানা থেকে নামতেই আবার মেসেজ ঢোকার শব্দ। এবার আর সে ততটা আগ্রহ দেখাল না। টেবিল থেকে চিরুনি নিয়ে চুলটা যত্ন করে বাঁধল।তারপর জলের বোতলটা নিয়ে আবার জল খেল সে। বোতলের ঢাকনা আটকাতে আটকাতে টেবিলের দিকে যাবে বলে উঠে দাঁড়াল সে। ঠিক তখনই আবার মেসেজ ঢোকার শব্দ হল। টেবিলের উপর জলের বোতলটা রেখে ফোনটা তুলতে গিয়েও  না দিলে কি মনে করে বাইরে গেল সে।

   বাইরে থেকে এসে সে ফোনটা নিয়ে বিছানায় গিয়ে বসল রঞ্জু। মুঠোফোনের লকটা খুলতেই দেখল দীপ্তর তিনটে মেসেজ হোয়াটস্অ্যাপে। 

  “কি করছো? “

  “এখনো ব্যস্ত নাকি?”

  “ডিনার করেছ?”

  মেসেজ গুলো দেখে রঞ্জু মেসেজ করতে যাবে ঠিক তখনই আবার নতুন মেসেজ ঢুকল। 

  “রাতে কি একা থাক? ফোন করতে পারব?” 

   “সারা বিকেলে ফোন করতে পার নি? এখন বর পাশে শুয়ে আছে। কথা বলা সম্ভব হবে না।” -মজা করে মেসেজ করল রঞ্জু।

   রঞ্জুর মেসেজ দেখে বিনা মেঘে বজ্রপাত হল যেন দীপ্তর জন্য। দুপুরের পর থেকে সে অদ্ভুত এক আনন্দ অনুভব করছিল। সে একবারও ভাবে নি যে রঞ্জু এতদিন অবিবাহিতা নাও থাকতে পারে। সে বোকার মত ভেবেছে রঞ্জু নিশ্চয়ই তাঁর জন্য অপেক্ষা করে আছে। সে একবারও ভাবেনি যে এতদিন সে রঞ্জুর সাথে কোন যোগাযোগ রাখতে পারে নি, তাহলে কোন ভরসায় রঞ্জু তাঁর অপেক্ষা করবে? 

    এমনকি তাঁদের সম্পর্কে কারুর বাড়িতেও কিছু জানত না। তাই হয়ত রঞ্জুর পক্ষে তাঁর জন্য অপেক্ষা করা সম্ভব হয় নি। হঠাৎ যেন সে আবার বাস্তবে ফিরে আসল রঞ্জুর মেসেজ পেয়ে।

    “সরি!” দীপ্ত আর কিছু লিখতে পারল না রঞ্জুকে। 

   দীপ্তর মেসেজ পেয়ে মুচকি হাসল রঞ্জু। সে আবার লিখল – 

   “সরি বলছ কেন? তুমি তো কিছু জানো না। তোমার পক্ষে জানাও সম্ভব না। “

     দীপ্তর আর কিছু ভালো লাগছে না। তবুও রিপ্লাই দিল –

    ” না, আমি তোমার বিয়ের বিষয়টা না জেনেই তোমাকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে ভেসে যাচ্ছিলাম। বাস্তবটা আমার আগে জানা উচিত ছিল। “

      দীপ্তকে চেনে রঞ্জনা খুব ভালো করে। সে বুঝতে পারল তাঁর ইয়ার্কি যে দীপ্ত বুঝতে পারেনি এটা সে বুঝল। তাই সে আর বিষয়টাকে এগোতে দিল না। সে মেসেজ করল দীপ্তকে –

     “এই তুমি আমাকে বিশ্বাস করো? এই তোমার ভালবাসা? তুমি কি করে বিশ্বাস করলে যে আমি অন্য কাউকে বিয়ে করে নিতে পারি? আমি তোমার সাথে মজা করছিলাম।”

   “সরি। তুমি ফিরে না আসলেও আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করতাম ঠিক যেমনভাবে এতদিন করেছি। ” আবার মেসেজ করল রঞ্জু। 

    দীপ্ত মেসেজটা পেল। দেখল রঞ্জু মেসেজ করেছে। কিন্তু তাঁর আর মেসেজটা পড়তে ইচ্ছা করল না। সে যেন আবার জীবন যুদ্ধে পরাজিত হল নতুন করে। মেসেজ দুটো না পড়েই ফোনটা পাশে রেখে দিল সে। ……………

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top