ছেলেধরা // সবিতা কুইরী

321

শিশুদের ওই পাঠশালাতে
এসেছে ছেলেধরা।
মায়েদের তাই ঘুম কেড়েছে
হয়েছে দিশেহারা।
একটা নাকি মেয়ে আসে
সঙ্গে থাকে ঝুলি
পাগল সেজে থাকে সে যে
রুক্ষ চুল গুলি।
বোশেক মাসের দূপুর বেলা
উঠল ভীষন ঝড়
আকাশে মেঘ গর্জে ওঠে
বাজ পড়ে কড়কড়।
পাঠশালাতে ছুটে সবাই
আনতে তাদের ধন
ছেলেধরার আতঙ্কেতে
ভয় ভীত যে মন
পাঠশালারই একটি শিশুর
মা তো আাসে নাই
তার যে অনেক দুরে বাড়ি
আসতে দেরি তাই।
খানিক বাদে বাবা আসেন
কোথাও নেই খোকা
নিশ্চয় ছেলে হয়েছে চুরি
খেয়ে গেছে ধোকা?
ছেলের খোঁজে বাবা যখন
করেন ছোটাছুটি
দেখতে পেলেন ছেলেধরা
খাচ্ছে ছিড়ে রুটি।
চেঁচিয়ে বাবা কহেন তাকে
বার করে দে ছেলে
নইলে তুই মরবি এবার
যেতেও পারিস জেলে।
আসেপাশের লোকজন কে
বাবা এবার ডাকে
পাগলি কিছু বলতে এলে
বেদম প্রহার তাকে।
মারো ধরো পেটাও সবাই
এই যে ছেলে ধরা
গনধোলাই পড়ল চোরের
পড়ল শেষে মারা।
এমন সময় বুক পকেটে
বেজে উঠল ফোন
এক নাগাড়ে অনেক কথা
বলেই গেল বোন।
কিসের চেঁচামিচি দাদা?
বাড়ি ফিরেছে খোকা,
পৌছে দিল পাগলি তাকে
আসে নি সে একা।
জানিস দাদা?পাগলি সে না
মিত্তির বাড়ীর কন্যা,
ভাসিয়ে নিয়ে গেছে ছেলে
গেল বছরের বন্যা।
তাইতো এখন পাগলাটে ভাব
কইল কত কথা।
শিশুদের ওই পাঠশালাতে
ভোলে মনের ব্যাথা।
শিশুর মধ্যে দেখে সে যে
নিজের ছেলের বায়না
ঝুলি থেকে বার করে তাই
নানা রকম খেলনা।
প্রকৃতির ঐ কালবৈশাখী
থেমে গেল যখন
মনের মধ্যে উথালপাতাল
ঝড় উঠেছে তখন।

Leave a Reply