দানের গুঁতো – বাপ্পাদিত্য চক্রবর্তী

‘ এই জনমের ‘মুল্যবান’ দানের ফলে
পরজনমের ফলভোগ””””
গত কাল রাতে ভালোভাবে খেয়ে দেয়ে ঘুমোতে গেলাম।মন টা অাজ বড়ো শান্তি। ।কারন জীবনে ভালো কাজ করার এক দারুন সুযোগকে নিয়ে চিন্তা করেছি।

আমি আমার মৃত্যুর পরে ‘চক্ষুদান’ করে যাবোই, এই সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছি।আগামীকালই চক্ষুদান চুক্তি কাগজে কলমে সই করে দেবো।
যাই হোক আমি ঘুমিয়ে পড়লাম।রাত তখন কতো ঠিক খেয়াল নেই।
হঠাৎ কে যেন আমায় ধাক্কা দিয়ে ঘুম ভাঙিয়ে দিলো।


উঠে দেখি আমি এক মস্তবড়ো সভায় দাঁড়িয়ে। চারিদিকে বড়োবড়ো মশাল জ্বালানো,আর প্রচুর কালো ষন্ডার্মাকা লোকজন দাঁড়িয়ে।
তবে আমি এইটুকু বুঝতে পারলাম যে,ঘুমের মধ্যেই আমার কেষ্টপ্রাপ্তি ঘটেছে।আর চারিদিকের পরিবেশ বলছে যে,আমি এইমুহুুর্তে যমালয়ে।


মনটা বড়ো খারাপ হয়ে গেলো।যাইহোক, আমার লাইনের সামনের মানুষটাকে থুড়ি সমমৃত ভাইকে বললাম, ‘ভাই আমাদেরকে নিয়ে এবার ওনারা কি করবেন?’
উত্তর এলো যে, উনিও প্রথমবার আর আমার মতোই এখানে অাসা। উত্তরের আশা বৃথা।


বুদ্ধি করে তখন সামনে ডান্ডা নিয়ে দাঁড়ানো ষন্ডার্মাকা লোকটিকেই প্রশ্নটি করলাম। অার যা শুনলাম তাতে বুঝলাম যে,এটা যমালয়।

আমরা যমরাজের বিচার সভায় আছি।আর সামনে যে বুড়ো লোকটি বসে খাতাপত্র দেখে হিসেব করছেন উনি চিত্রগুপ্ত, আর সবথেকে বড়ো সিংহাসনে যিনি বসে আছেন, উনিই যমরাজ। যাঁর কর্ম, হিসাব ঠিকঠাক মিলবে, সে সোজা স্বর্গে।আর ভুল হলে যমরাজ যা বলবেন তাই হবে।


আমি পুরোপুরি নিশ্চিত হলাম যে আমার স্বর্গে যাওয়া আর কে অাটকায়?কতো ভালো কাজ করেছি,তার ওপর চোখদান এর মতো মহৎ দান করে এসেছি।
যাই হোক অবশেষে অামার নম্বর টি এলো।


চিত্রদাদু অামার সমস্ত হিসেব মেলানোর পর সবেতেই ভালো কাজে অামি জয়ী হলাম।স্বর্গে যাওয়া প্রায় পাকা। আমিও খুবই খুশি।কিন্ত সর্বশেষে অামি কি কি জন্মগ্রহনের সময় নিয়ে জন্মেছিলাম তার হিসাব টা করলেই আমার বিচার শেষ হবে।আমি ও হিসাব মেলানোর জন্যে প্রস্তুত হলাম।
শুরু হলো হিসাব,,,,
২ টি পা — আছে।
২ টি হাত –আছে।
২টি কান –আছে।
২টি কিডনি –আছে।

১টি নাক –আছে।
১ টি লিভার –আছে।
২টি চোখ — নেই
ব্যস, এই ২টি চোখ ‘নেই’ শুনে যমরাজ চোখ লাল করে আমায় ধমক দিয়ে বললেন “”তোর তো সবই ঠিক আছে, তা চোখ দুটো কোথায় ফেলে এলি রে?
অামি তখন গর্বিত ভাবে বললাম””হে যমরাজ আমি আমার চোখ দুটো দান করে এসেছি। মানুষের জন্যে”।


আমার এই কথা শুনে আগুনে যেন ঘি পড়লো।যমরাজ আরো রেগে গিয়ে বললো “”ঠাকুরদার সম্পত্তি ভেবেছিস। যে নিজের চোখ দুটো দান করে আসবি। এখান থেকে নিয়ে সঙ্গে করে নিয়ে যাবি, আবার বাবার জিনিষ ভেবে দান করে দিয়ে মহান দাতা সেজে দাঁত কেলিয়ে এখানে আসবি? হতচ্ছারা যা এবার।
তুই চোখ ছাড়াই পৃথিবী তে জন্ম নে। অন্ধ হয়ে বোঝ, দান করার মজা””


বলুন তো ব্ন্ধুরা আমার দোষ কোথায়? ছিলাম বিনোদন জগত নিয়ে।কতো সুন্দর নাচ দেখতাম, গান শুনতাম,সিনেমা দেখতাম। ফেসবুক এ কতো কিছু লিখতাম। কতো বন্ধুদের দেখতাম। আবার সমাজের রঙ্গলীলাও দেখতাম। তা নয়, পর জনমে অন্ধ হয়ে বারাসাত ষ্টেশন ও”বাবা” দুটো পয়সা দেবে।অন্ধ কে কিছু দান করবে” এই সব বলতে হবে।
দানের এই প্রতিদান??
হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলো।
দেখি আমার পাশে আমারই অনেক ফেসবুক বন্ধুরা।।
কে কি বলছে শুনি একটু।…

Leave a Reply