এক অতি সাধারণ গল্প

Spread the love

অপচয়   : শম্পা সাহা

রমেন বাবু খুব হিসেবি মানুষ  তার হিসেবের বুনট এতটাই জমাটি যে একটি পয়সাও এদিক ওদিক হবার উপায় নেই । সারা জীবন স্কুলে চাকরি করেছেন, বাড়িতে এসে মুদি দোকান সামলেছেন ,কিছু কিছু ছাত্র ও পড়িয়েছেন । তার জীবনে অর্থের এতোটুকু অপচয়ও তিনি কখনো করেননি ,এমনকি সময়েরও না । তার উপার্জনের প্রতিটি পয়সার হিসেব তার কাছে আছে। 

      বউয়ের বছরে দুটি শাড়ি  একটা পুজো আর একটা পয়লা বৈশাখে ,রমেনবাবুর ও বছরে দুজোড়া শার্ট প্যান্টেই দিব্যি চলে যায় । বাড়ি দোতলা করেছেন কিন্তু প্লাস্টার করেননি।পয়সা নষ্ট হবে বলেই কখনো বউ ছেলেমেয়ে নিয়ে কোথাও বেড়াতে যাননি , ছেলেমেয়েদের অন্যায় আবদার ও কোনদিন মেনে নেননি রমেনবাবু । তবে হ্যাঁ ছেলেমেয়ের পড়াশোনার ক্ষেত্রে কোনো কার্পণ্য করেননি, বই-খাতা যা যা লাগে সব দিয়েছেন । এটা উনি ভালই জানেন যে এটাকে অপচয় বলে না । তাই তার ছেলে আজ ডাক্তার, মেয়ে নার্স । মেয়ের ভালো বিয়েও দিয়েছেন ,জামাই ও ডাক্তার,কিন্তু রমেনবাবু রমেনবাবুই আছেন । তার বাড়িতে আজও বাহুল্য নিষিদ্ধ তাই তার স্ত্রীর সময় ও যাতে অপচয় না হয় তার জন্য তিনি কাজের লোক রাখেন নি কোনদিন। 

      যাই হোক এই ভাবে জীবনের বাষট্টি বছর কাটিয়ে দেওয়ার ফাঁকে রমেনবাবু বুঝতে পারেননি তার স্ত্রীর খুসখুসে কাশি টা আসলে লাঙ্গস্ ক্যান্সার । তাই রাত্রে স্ত্রীর অল্প জ্বর নিয়ে গজগজ করেছেন, তিনি নিজেই প্যারাসিটামল খাবার নিদান দিয়েছেন । ছেলে বাবার অপচয় এড়াতে কচিৎ কদাচিৎ বাড়ি আসে, তবে গত বছর পুজোয় যখন বাড়ি এলো ,মাকে দেখে কেমন সন্দেহ হলো !সে ই উদ্যোগ নিয়ে মায়ের সব টেস্ট করানো তে ধরা পড়ল রোগটা। তবে একেবারে লাস্ট স্টেজ তো তাই রমেনবাবু চিকিৎসা নিয়ে বাড়াবাড়ি টা পছন্দ করলেন না। তার স্ত্রী বাহুল্যবর্জিত জীবন থেকে বাহুল্য হীন ভাবেই বিদায় নিলেন এবং তার শ্রাদ্ধ শান্তিও মিটলো সেই ভাবেই। 

     রমেনবাবু একই রকম আছেন তার কোন বদল নেই, খালি রান্না আজকাল নিজেকে করতে হয় ।স্ত্রীর মৃত্যুর কয়েক দিন আগে থেকে রমেনবাবু মাঝে মাঝে রান্না করতেন কারণ স্ত্রী অসুস্থতার কারণে রান্নাটা আর করে উঠতে পারতেন না। তাই রমেনবাবুর খুব একটা অসুবিধা হয় না । 

     শুধু গত রাতের স্বপ্নটা কেমন খচখচ করছে। গত রাত্রে তিনি এক অদ্ভুত স্বপ্ন দেখেছেন, নীলা মানে তার স্ত্রী একটা লাল বেনারসির জন্য বায়না করছে, ঝগড়াও! তাই রমেনবাবু ভাবছেন নীলা তো এরকম অপচয় এর জন্য কখনো বলেনি…! 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *