দেবদূত : নয়ন মালিক

Spread the love

অষ্টমীর সন্ধ্যা। শিয়ালদহ প্লাটফর্ম চত্বর তখন বন্যা স্রোতে ভেসে চলেছে। পূর্ব প্ল্যান মত মনিরুল আর হারুন দু’জনে এগিয়ে এলো প্ল্যাটফর্মের দু দিক থেকে । 

     আটটার মেল ট্রেন ঢোকার অপেক্ষা…। 

     তারপরই আর্তনাদ আর ভয়ের বিভীষিকা প্লাটফর্ম জুড়ে বয়ে যাবে।

    মনিরুল আর হারুন নিচু স্বরে আরো একবার  তাদের পরিকল্পনা ঠিক করে নিল। তারপর বিদায় সম্ভাষণ জানিয়ে দুজন দুদিকে চলে গেল। ঠিক হল হারুনের বিষ্ফোরণের কয়েক মিনিটের মধ্যে , মানুষ যখন বাঁচার তাগিদে অপর প্রান্তে দিশেহারা হয়ে ছুটে যাবে ঠিক তখনি মনিরুলও। 

     কথা মত কাজ। 

     আটটার মেল ট্রেন ঢোকার কয়েক সেকেন্ড , হঠাৎ ভয়াবহ বিষ্ফোরণে কেঁপে উঠলো গোটা প্লাটফর্ম। সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন সহ উড়ে গেল প্ল্যাটফর্মের একাংশ। নিমেষে প্লাটফর্ম জুড়ে রক্ত আর কান্নার স্রোত বয়ে গেল। বিষ্ফোরণের তীব্রতা এতটাই প্রকট ছিল, মনিরুলও তাল সামলাতে পারলো না,  প্ল্যাটফর্মের মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল । 

      মনিরুল উঠে বসতেই এক পাঁচ ছয় বছরের ফুটফুটে মেয়ে ছিটকে এসে পড়ল তার কোলের কাছে। গোটা শরীর  তার রক্তস্নানে ভেসে যাচ্ছে ।

  ‌‌  মনিরুল উঠে দাঁড়ালো। বিপুল সংখ্যক মানুষ আতঙ্কে এদিকে ধেয়ে আসছে । তার হাতের লাল বোতামটা চাপ দেবার অপেক্ষা। মুহূর্তে বিষ্ফোরণে  ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে তার শরীর সহ প্লাটফর্মের আর এক অংশ। মনিরুলও মানুষিক ভাবে প্রস্তুত । এবার লাল বোতামটা চাপ দেবে , সহসা বাচ্চা মেয়েটি তার পা দুটোকে জড়িয়ে ধরে  করুন আর্তি 

     — কাকু আমি বাঁচতে চাই ! কাকু আমি বাঁচতে চাই।

     মনিরুল বাচ্চা মেয়েটির দিকে তাকালো। মুখটা  ব্যথায় কুঁকড়ে গেছে। তার ডান পায়ের একটা অংশ উড়ে রক্তে মাখামাখি। সহসা মনিরুলের হাত থমকে গেল। লাল বোতাম থেকে হাতটা সরিয়ে নিল। মনিরুল আর দেরি করল না। বাচ্চা মেয়েটিকে কোলে তুলে ছুটল।

     হসপিটাল কত দূর কে জানে !         

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *