মাশুল : শম্পা সাহা

Spread the love

রিমা আর প্রণবেশের সম্পর্কটা অনেক দিনের বছর তিনেক তো হবেই ,সেই ক্লাস এইট থেকে । রিমা প্রনবেশ পড়াশোনাতে ভালো দুজনেই ।পরিবারের লোকের আপত্তি নেই এটা যেন ভাববেন না !রিমার বাবার চায়ের দোকান আর প্রণবেশের বাবা বড়ো ব্যবসাদার । তাই রিমার বাড়ি থেকেই আপত্তিটা বেশি ছিল কারণ, “ওরা বড়লোক ওদের সঙ্গে আমাদের খাপ খায় না”, এই ছিল রিমার বাড়ির লোকের মতামত। 

   বাড়ির লোক যাই বলুক তাতে ওদের সম্পর্কের কোনো সমস্যা হয়নি ,কারণ ওরা একই স্কুলে পড়ে ,দুজনেই সাইন্স ,স্কুল টিউশনি সব জায়গাতেই ওদের অবাধ মেলামেশা । যদিও রিমার বাবা যখন যখন কারো কাছে মেয়ের বেচালের খবর পায় এসে বকাঝকা করে কিন্তু গরিব হলে যেন সন্তানের ওপর জোর বা অধিকার ও কমে যায় অথবা বলা ভালো নিজের মেরুদণ্ডের জোর কমে যায় তাই খুব বেশি কিছু বলতে পারতেন না। মা অবশ্য মারধর করেন কিন্তু ঘরে আটকে রাখতে পারেন না। একমাত্র মেয়ে  রিমা তাকে নিয়ে যে ওদের বিশাল স্বপ্ন, একদিন সে অনেক বড় হবে, খুব নাম করবে ,ভালো চাকরি করবে ,সেদিন ওদের দুঃখ ঘুচে যাবে । কিন্তু মেয়েটা যে কেন বোঝে না! রিমার মা কাঁদেন , বাবার বুক চিরে বের হয়ে আসে দীর্ঘশ্বাস । 

      সেদিনটা ছিল জগদ্ধাত্রী পূজার নবমী ,ওদের পড়া ছিল চারাতলায় ,বাড়ি থেকে সাইকেলে তাও ঘন্টাখানেক তো হবেই। রিমার সঙ্গে বান্ধবী সাথী,শচীন আর প্রণবেশ ওরা চারজন একসাথে পড়তে গিয়েছিল ।  এই আশেপাশের পাঁচটা গ্রামের মধ্যে সবচেয়ে বড় জগদ্ধাত্রী পুজো হয় এই চারাতলায়।ওরা ঠিক করল পড়া শেষ হলে সবাই কিছুক্ষন ঠাকুর দেখে তারপর ফিরবে,এসেই যখন পড়েছে। পড়া শেষ হতে হতে প্রায় সন্ধ্যে সাড়ে ছ’টা ,সাথী আর  দেরি করতে চাইলো না 

বলল ,”না রে আমার বাড়িতে বকবে ,আমি যাই ” ,সাথী চলে এলো । এতটা রাস্তা শচীন ওকে একা ছাড়তে চাইলো না ,তাই ওরা দুজনেই বাড়ির দিকে রওনা দিলো । কিন্তু  রিমা আর প্রনবেশ থেকে গেল ঠাকুর দেখবে বলে।

       গল্প করতে করতে আর ঘুরতে ঘুরতে কখন যে সন্ধ্যে গড়িয়ে রাত  নটা ওরা খেয়ালই করেনি আর তাছাড়া চারাতলায় আলোর  রোশনাই,মানুষের ভীড়ে ঘড়ি দেখার কথা ওদের মনেই নেই। হঠাৎ প্রণবেশ ই বলল, “না  রে আর না, অনেক রাত হলো এবার চল”, “তাই তো! “রিমা ঘড়ি দেখে ভয় পেয়ে গেল ,ওরা ঠিক করল গ্রামের ভেতর কার রাস্তা টা ধরবে কিছুটা তাড়াতাড়ি হবে ,যদিও খানিকটা ধানক্ষেত তাও মোটামুটি আধ ঘণ্টার মধ্যে বাড়ি পৌঁছানো যাবে।           

দুজনেই পিচ রাস্তা ছেড়ে ধরল মাটির রাস্তা । 

    একদিন পর খবরের কাগজের হেডলাইন, ধানক্ষেতে কিশোরীর মৃতদেহ ,সন্দেহ হচ্ছে ধর্ষণের পরে খুন। মাথাটা পাথরে থ্যাঁতলানো ,শনাক্তকরণ অসম্ভব। আসামির খোঁজে তদন্ত চলছে কিশোরীর পরিচয় অজ্ঞাত। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *