রক্ত : মিতা সরকার

Spread the love

রানী দিদি অনেকদিন ধরে বসু বাড়িতে কাজ করে । খুব অল্প বয়সে সে স্বামীকে হারিয়েছে । সংসারে তার একমাত্র ছেলে ছাড়া আর কেউ নেই । বসু গিন্নি রানী দিদিকে একদম সহ্য করতে পারতো না ।
কারণ রানী দিদি ওনাদের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে । কথায় কথায় তিনি রানী দিদিকে অপমান করতেন । রানিদিদি সহায় সম্বল হীন বিধবা মহিলা । কি আর করবেন সব সহ্য করে কাজ করে যেতেন । বসুদেরও একটি ছেলে ছিলো রানিদিদির ছেলের বয়সের ।
ছেলেটি কিন্তু খুব ভালো ছিলো । রানী দিদিও ওকে খুব ভালোবাসতো । দেখতে দেখতে রানিদীদির ছেলে আর বসুদের ছেলে রাহুল বড়ো হয়ে উঠলো ।
একদিন রাহুল কলেজ যাবার পথে একটি লরিতে ধাক্কা খায় আর ভীষণভাবে
আহত হয়।কিছু লোকজন ওকে হসপিটালে ভর্তি করার । কিন্তু রাহুলের অবস্থা সঙ্কটজনক বলেন ডাক্তাররা । প্রচুর রক্ত তার শরীর দিয়ে বেরিয়ে যায় ।
রাহুলের রক্তের গ্রুপ ও পজিটিভ ছিল । এই গ্রুপের রক্ত সহজে পাওয়া যায় না ।
অনেক চেষ্টা করেও রক্ত পাওয়া যায় না ।
রাহুলের মা ,বাবার তো মাথায় হাত । অনেক টাকা দিয়েও রক্ত পাওয়া যাচ্ছে না অবশেষে রানী দিদি তার ছেলেকে নিয়ে হসপিটালে আসে । তার ছেলের রক্ত ডাক্তারকে পরীক্ষা করতে বলে । যদি রাহুলের রক্তের সাথে মিলে যায় । রাহুলের মার দারুন আপত্তি থাকে ।
তার মতে একটা ছোটো ঘরের ছেলের রক্ত কখনোই তার ছেলের সাথে মিলতে পারে না । কিন্তু মিস্টার বসু কোনো আপত্তি করেন না । রানী মাসীর ছেলের রক্ত পরীক্ষা করা হয় এবং আশ্চর্যজনকভাবে রাহুলের সাথে রক্তের গ্রুপ মিলে যায় ।
এ যাত্রায় রানী মাসীর ছেলের দৌলতে রাহুল বেঁচে যায় । বসু গিন্নির চোখ খুলে যায় । যাকে সবসময় দুর ছাই করতেন তিনি ,সেই রানী মাসীর জন্যই বসু পরিবার তাদের সন্তানকে আবার ফিরে পায় ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *