জলগলি – দেবদাস কুণ্ডু

Spread the love

সামনে পৌরসভার ভোট। প্রচারে বেরিয়েছেন রতন লাল শাউ।এটা বারো নম্বর ওয়র্ড। এখানে অবাঙালী ভোটার বেশি। কিন্ত সাউ দীর্ঘ কাল এখানে থেকে পুরো বাঙালী হয়ে গেছেন। তিনি একটা সরু গলিতে টুকেছেন। হঠাৎ সিল্পিপ কেটে পড়ে যাচ্ছিলেন। পার্টি ছেলেরা তাকে ধরে ফেললেন। তিনি বললেন, ‘এখানে এতো জল কেন? 

মানিক বলল,’ দাদা এই গলিটার নাম জল গলি। 

‘কি? জল গলি? কোনদিন তো শুনি নি। তা জলগলি কেন? 

‘ দাদা এই গলিতে সব সময় জল পড়ে থাকে। কতো লোক হাত পা ভেঙেছেন এই গলিতে পড়ে গিয়ে । 

‘কিন্তু কেন এই জল পড়ে থাকে? 

‘ কারন এই গলির শেষ মাথায় একটা মাএ কল। পরিবার আছে চল্রিশটা। এতো লোক। কল একটাই। সবাই জল ধরে রাখেন। দেখছেন তো গলির দুদিকে শুধু জলের ড্র্যাম। বালতি। গামলা। এতে গলি হয়ে গেছে ছোট। এখান থেকে জল নিয়ে এখানে হাত মুখ ধুছছে। চান করছে। কাচছে। তাই জল পড়ে থাকে। নাম জলগলি। 

       রতন লালের মাথায় একটা বুদ্ধি খুলে গেল। তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলতে থাকলেন, ‘আপনারা তো এতো বছর নিস্কৃতিকে ভোট দিয়েছেন। আপনাদের জলের সমস্যা মেটে নি। কতো কষ্ট করে জল ভরে রাখতে হয়। ডার্ম কিনতে হয়েছে। বালতি কিনেছেন। গামলা কিনেছেন। রাত বিরেতে বাইরে এসে জলের কাজ করছেন। কেন এতো কষ্ট করবেন? নিস্কৃতিকে এবার নিস্কৃতি দিন। আমাকে ভোট দিন। সব সম্যসা মিটে যাবে। কথা রাখবো। 

                খুব আনন্দ ।সকলে দিলেন রতনলাল সাউকে ভোট্। তিনি জিতে গেলেন। হলেন কাউন্সিলর। পাঁচ নম্বর বোরো চেয়ারম্যান। এতো ব্যস্ত হয়ে পড়লেন যে ভুলে গেলেন জল গলির কথা। অথচ পরে গননা করে দেখা গেছে জল গলির লোক ভোট না দিলে তিনি কাউন্সিলর হতে পারতেন না। 

               এবার জলগলির লোক একদিন তাকে ধরলেন। 

               তিনি বললেন, ‘কি বলছো? জল গলি? সেটা আবার কোথায়? 

পাশে সেদিন মানিক ছিল না। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *