যাত্রাপথে – রণেশ রায়

 

জীবন যাত্রার পথে
হঠাৎ দেখা দুজনে
কোন এক রেলগাড়ির কামরায়
দেখা পরস্পর স্বজনে,
সে বসে বিপরীত বেঞ্চিটায়
কত না গুণগ্রাহী তাকে ঘিরে;
অনেকদিনের সে অপেক্ষা
আমি বসে দোটানায়
হয়তো মিটবে সে তিতিক্ষা।

আগে ও এসেছে কচি সবুজ শাড়িতে
এই অভাগার মানস তটে,
যেন ভোরের আলোয় উদ্ভাসিত
কচি ঘাসের মাথায় শিশিরবিন্দু
জ্বল জ্বল করে, অপেক্ষারত
বাষ্প হয়ে কখন উড়বে
আকাশে সূর্যের সঙ্গে মিলবে।

 আজ দেখি ওকে সাদা বুটি তোলা কালো শাড়িতে
ফুটে উঠেছে বয়সের গাম্ভীর্য পাহাড়ের প্রত্যয়
সে প্রত্যয় লেখা থাকে জীবনের শেষ প্রান্তে।

আমি মূক হয়ে থাকি  আনমনে,
ভরসা পাই না চিনতে,
ভয়ে থাকি, সে যদি না চেনে!
লজ্জা পাই তার দিকে তাকাতে,
ভাবি স্তব্ধতাই সবচেয়ে ভালো;
যে ক্ষত বয়ে চলি চিরন্তন
রক্তক্ষরণ সেখান থেকে
স্তব্ধতাই তার নিরাময়
বন্ধ হবে রক্তক্ষরণ।

জাবর কেটে চলে স্মৃতি
বিস্মৃতির সমুদ্র মন্থন
যৌবনের সেই রঙিন সন্ধ্যা
অতীতের কত না সাতকাহন,
পথ ধরে হেঁটে চলা
নির্জন পার্কে মজলিস দুজনে
সময় কাটে একান্ত নিভৃতে
গ্রীষ্মের মধ্য গগণে সূর্যের দহনে,
নেয়ে উঠি দুজনে
ভবিষ্যতের ছবি এঁকে চলি
সমুদ্রের বালু তটে,
বাধি বালির বাঁধ,
তারপর! দুটি পথ দুদিকে।

মনে হয় আমাকে দেখেছে
দেখেও না দেখার ভঙ্গিতে,
সে আমাকে আজ থোড়াই পোছে
যদিও বসে বিপরীতে,
নিজেকে রাখতে চায় আলো আঁধারে
এক কুহেলির আড়ালে।

তাকে চিনি নি কোন দিন,
জানি না কোথায় তার যাত্রা শেষ
কোন ইস্টিশনে সে নামবে,
তাও আমার কৌতূহল তাকে ঘিরে
সে কৌতূহল ঘিরে থাকে তার পরনের শাড়িতে
শিরিষের মাথায় ভোরের শিশিরের নাচনে
অথবা আকাশের নিলাঞ্জনে
সে আজও আমার কুহেলিবনে।

স্টেশনের পর ষ্টেশন চলে যায়
কথা নেই দুজনায়
নিরুদ্বেগ তার, উদ্বেগ আমার
আমার নামার সময় হল বলে এবার,
তবে কি নিরর্থক রয়ে গেল এ অভিসার!
পূরণ ব্যথাটা যেন গুমরে মরে
রক্তক্ষরণ সে ক্ষতে আবার।
স্টেশন এসেছে, আমি উঠি নামব বলে
হঠাৎ ই সে চিনতে পারে সেই পূরণ আদলে,
জ্বলে ওঠে আলো রাতের জ্যোৎস্নায়
আমায় হাত নেড়ে দেয় বিদায়,
আমার মনে হয় এই বিদায় কালে,
‘মেঘাচ্ছন্ন আকাশে সূর্য আজও হাসে
নিজেকে লুকিয়ে মেঘের আড়ালে’।

আপনার মতামত এর জন্য

Ranesh Ray
Ranesh Ray

 

Leave a Reply