বক্ষপিঞ্জরে! – ছন্নছাড়া

 

যদিও জানতেম তোমারে কখনও নিজের করে পাওয়া হবে না!
তবু পরিচয় ক্ষণে তোমারেই সবচেয়ে আপনার জন ভেবেছিলেম।
দিয়েছিনু তোমারে সুরক্ষিত স্হান একান্তে, আপনার বক্ষমাঝারে,
বাস্তবতা আর কল্পনাবিলাসের যে বৈরীতা চলে আবহমানকাল জুড়ে, হয়ত বা তাকেই অস্বীকার করেছিলেম।
তুমি তো এসেছিলে ক্ষণিকের তরে, বাহুডোরে পরেছিলে বাঁধা,
তখনও বুঝিনি তুমি যে এক কঠিন জটিল ধাঁধাঁ।
আমার প্রতি তোমার ব্যবহারের পরতে পরতে জড়িয়েছিল ছলনার মায়াপাশ,
বুঝেও না বোঝার ভুল করেছিনু বারবারে, হারাতে চেয়েছিনু তব মাঝে,
সেখানেই লুকানো ছিল তোমার ছলনার মাহাত্ম্য, আর মোর আবেগ হয়েছে ক্ষত বিক্ষত।
বারবার তোমার শাণিত খঞ্জর আঘাত হেনেছে মোর বক্ষমাঝে, পিঞ্জর তলে,
যেখানে তোমারে সাজায়ে রেখেছিনু পরম যতন করে, একান্তে নিজের করে।
প্রতিটি আঘাতে রক্তাক্ত হয়েছিনু বারবার,
তবুও প্রতিক্ষণে সে সব ভুলে জড়ায়ে ধরেছিনু তোমারে আপনার করে।
সে আঘাতের আঁচ তোমার কাছে পৌঁছাতে পারেনি আমাকে ছিন্ন করে,
মোর বক্ষপিঞ্জরে আঘাত করে ফিরে গেছে বারেবারে,
তোমারই দেওয়া আঘাত থেকে তোমারেই রক্ষেছিনু প্রতিক্ষণে।
বুঝিতে পারোনি তা, সে নয় মোর ব্যর্থতা, সে তো তোমারই অঞ্জতা!
তবুও একটা সময় পরে তোমার নিজেরই করা ক্ষত যখন তোমায় করেছে রক্তাক্ত চুপিসারে,
তখন তোমার রক্তাক্ত অবয়বের সামনে দাঁড়িয়ে থেকেছিনু নিরুপায় হয়ে,
নিস্পলকভাবে চেয়ে থেকেছিনু তোমার বিষন্ন, বিপন্ন মুখ পানে-
হয়ত বা তখন মোর নয়ন মাঝে তুমিও দেখেছ নিজেকে রক্তাক্ত হতে,
কিন্তু বড় দেরী করে ফেলেছ নিজের অস্তিত্বকে চিনতে,
আমাকে আহত করতে চেয়ে নিজেকেই ক্রমাগত আঘাত করে গেছ নিজেরই অজান্তে,
আপনার ফিরিবার পথ করিয়াছ রুদ্ধ আপন হস্তে,
আপনার সুরক্ষিত বাসস্হানে, মোর বক্ষপিঞ্জরে!

 

story and article
Biswajit Bose

Leave a Reply