নো টেনশন ডু ফুর্তি – শম্পা সাহা

shampa saha
প্রায়ই নীতি পুলিশেরা তাদের ছড়ি ঘোরায় আমাদের চারিপাশে। তারা সব কিছুতেই এমন ভাবে মতামত প্রকাশ করে, যেন এ ব্যাপারে তাদের মতামতের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।

  কার মেয়ে বেশি রাত করে বাড়ি ঢুকলো, কার ছেলে আজ কোন মেয়েকে গোলাপ দিলো এতো জলভাত। অমুক দাদার ঘরে কেউ একজন মহিলা এসেছিল যখন অমুক বৌদি বাইরে ছিল বা তমুক বৌদি কোনো এক বাইকের পেছনে ঘুরছিল। ছি, বা এ অনৈতিক।

 এমনকি ঘোঁট  পাকিয়ে দল গঠন করে অমুক দা বা তমুক বৌদির “জিনা  হারাম” করে  ছেড়ে দেবে। যদি ভেবে থাকেন শুধু অশিক্ষিতরা এসব করে, আপনি ভুল ভাবছেন! যদি ভাবেন, শুধু মহিলারা এসব করে, আপনি কিস্যুই জানেন না, যদি আপনার দৃঢ় ধারনা হয়, ওসব গেঁয়ো ব্যাপার, আপনি ডাঁহা ফেল, আর যদি ভাবেন ওসব মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত মানসিকতা, আপনি বলে বলে সেমসাইড দশগোল খেলেন।

 এই ধরুন আমি দিদিমণি,আমি চুড়িদার পড়ে স্কুল যাই, আমার লাল চুল, আমি মাঝে মাঝে চশমাটা প্রয়োজনে আমার মাথার উপর উঠিয়ে রাখি, এ নিয়ে সব চেয়ে বেশি আলোচনা করে আমার বাড়ির সামনের দোকানের বেঞ্চে বসা ছেলেরা। কি ভাবছেন, বুড়ো কাজ নেই? ভুল! সব বয়স বাইশ থেকে চল্লিশের মধ্যে।

  আমি ইউটিউবিং করি, তাতেও শুনতেন হয় শ্লেষ মেশানো কথা, “উনি তো সব ব্যাপারেই একটু বেশি এগিয়ে থাকেন! “। আমার মাথায় চশমা তুলে রাখা, বা মাথা উঁচু করে হাঁটা বা লাল চুল নিয়ে মহিলারা তো বাদ ই দিলাম বহু শিক্ষিত পুরুষের আলোচনা সমালোচনার শেষ নেই।

 কি ভাবছেন, শুধু ছেলেরাই এসব করে? তাহলে শুনুন আমার এক আত্মীয়া, তিনি বৌ হয়ে এসে পর্যন্ত দেখছি সবাইকে নীতি শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন, “তোমার মেয়ে এতো বেলা পর্যন্ত ঘুমোয় কেন?”, ” মেয়ে মানুষের এসব মানায় না “, বা ” ঐ মেয়ে ঐ ছেলের সঙ্গে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে কি সব করছিল জানো দিদি? ছি ছি! “এমনকি সেই মেয়ের বাবা বা মা কে এ নিয়ে জনসমক্ষে তাকে হেনস্থা করতেও দেখেছি। যেকোনো মহিলা মহলের সে মধ্যমণি।

  অথচ তার মেয়ে কত জনের সঙ্গে যে প্রেম করেছে তার যেমন ঠিক নেই, তেমনি তার ঘরে পাড়াতুতো দেওরের ছিল নিত্য যাতায়াত। আর শেষমেশ যখন  এক প্রেমিক পেল, মেয়ে ও সেই প্রেমিক কে ঘরে রেখে সে বাইরে বসে পাহারা দিত, ” আমার মেয়ে রাস্তা ঘাটে ঘুরবে? ও আমি কোনোদিন অ্যালাউ করবো না!।” ঠিক! তাই বাড়িতেই পাকা ব্যবস্থা। এবং  সে ও তার স্বামী আমার বরকে নিয়মিত শিক্ষা দিতো কিভাবে আমার মত বেয়াড়া বৌ কন্ট্রোল করতে হয়।  তাহলে কেন আমি বা অন্য কেউ তার প্রতিবাদ করেনি? আমার মা এর বলা সেই বিখ্যাত প্রবাদ, “ছেইড়া গুয়ে বারি দিতে নাই! ”

  মরাল অফ দ্য স্টোরি কি? মরাল অফ দ্য স্টোরি হল, “রাজা চলে বাজার কুত্তা ভৌকে হাজার”। এসব পাব্লিক ছিল, থাকবে যারা আপনার সব ব্যপারে, “টাং এড়াবে”, নাক গলাবে, কাঠি করবে। আপনার সব ব্যপারে ওদের গাত্র দাহ হবে।ওদের কাজ ওদের করতে দিন আপনি বিন্দাস আপনার কাজ করে যান। এরা ছিল আছে থাকবে, তাই ” নো টেনশন, ডু ফুর্তি “।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *