ভালো পাত্র – আবীর মহাপাত্র || যেমন খুশি সাজ – অভিষেক সাহা || গদ্য – কে ঠিক কে ভুল – শম্পা সাহা

আঁধারে শুভ বুদ্ধির আলোই পৌঁছাক বা মেয়ের বাবারা শুধু চাকুরে জামাই চাই,

আঁধারে শুভ বুদ্ধির আলোই পৌঁছাক বা মেয়ের বাবারা শুধু চাকুরে জামাই চাই, এই স্হির সিদ্ধান্তে অটুটই থাকুক, মিনতি শেষ পর্যন্ত বিনা পণে ছেলের বিয়েতে রাজি হল। গোবিন্দ এবার অনেকদিন পর জয়ের বিয়ের উপাড় পেয়েছিল। আগের বার গুলোর মত আর কেউই মন মত চাইল না, এমনকি গোবিন্দ মিনতির আদরের বুলুরও হবু বৌদি পছন্দ হল। বুলুর জন্যেও কিছুদিন আগেই প্রথম উপাড় এসেছিল। ছেলের ইলেকট্রিক্যালের চালু দোকান। গোবিন্দ বলেছিল, এ বছরই কলেজে ভর্তি হয়েছে, দেখি আর একটু, ভালো পাত্র পাই যদি।

বৌমা রিনা সংসারের কাজ প্রায় সবই জানে। গোবিন্দ জয় দুজনে মিলে মুদি দোকান চালায়। গোবিন্দর স্বর্গত বাবাকেও এই দোকানে বসতে দেখেছি। বিরাটডি গ্রামের বড়, শহরের ছোট। ওদের দোকানে বিক্রি বাটা ভালো।

বুলুর জন্য পেশায় শিক্ষক জামাই খুঁজছিল গোবিন্দ। ছবি দেখে সবাই আগ্রহ দেখায়, পরে মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিকে সেকেন্ড ডিভিশন শুনেই অনেকে ছবি ফেরৎ দিয়ে দেয়। এই প্রথম দেখতে আসছে একজন। পাত্র বড় স্কুলের শিক্ষক। বুলুর চেয়ে বছর পনেরো বয়সে বড়, এটাই যা একটু শুনতে খারাপ। ওরা অবশ্য বলেছে পণ তারা নেবে না, একটু দেখতে হবে যেন মান থাকে।

একবার রিনা শুধু বলল, পাত্র আমাদের বুলুর চেয়ে অনেক বড়। আর এই মান রাখার ব্যাপারটা আবার বেশি জটিল, বোঝাই মুস্কিল ঠিকঠাক হল কিনা! মিনতি বলল, দেখ বৌমা, তোমার বাবা তোমার জন্য কিছু জমান নি বলে ভেবো না, আমরাও বুলুর জন্যে কিছু রাখি নি। ও নিয়ে তোমায় কিছু ভাবতে হবে না।

ছলছল চোখে রিনা ওদের শোবার ঘরে বিছানায় গিয়ে বসল। রিনার মনে পড়ে গেল, সে তার বাবাকে বলেছিল, বাবা তুমি আমাদের জন্য বরাবর পোশাক এক সাইজ বড় কিনতে, যাতে বছর দুই সেগুলো পরতে পারি। এখন কিন্তু বড় হয়েছি, আর যেমন লম্বা হব না, লেখাপড়াতেও বাড়ব না। টেনেটুনে বিএ পাশ ই তোমার জামাই খুঁজো কিন্তু।

অণু গল্প

abhisek saha

যেমন খুশি সাজ
 গল্পকার — অভিষেক সাহা

” ওরে চম্পা, কোথায় গেলি ! কতদিন বলেছি জানালাগুলো ভালো করে বন্ধ করবি, গ্লাসডোরগুলো ঠিক করে লাগাবি, কে শোনে কার কথা, এই অসময়ে আমার ঘুমটা ভাঙল !” বিরক্ত হয়ে চিৎকার করে বলল বছর সত্তরের আভা ।

চম্পা পাশের ঘরেই ছিল। চিৎকার শুনে ছুটে এলো। দৌড়ে গিয়ে সামান্য আলগা হয়ে থাকা গ্লাসডোর ঠিক করে বন্ধ করে বলল ” কোথায় অসময় ! এখন ক’টা বাজে জান, সন্ধে সাতটা। সেই দুপুর দু’টো থেকে ঘুমাচ্ছ। এবার একটু ওঠো, চা খাও। এরপর তো রাতে ঘুম আসবে না ! একটু আগে সুমিত দাদাবাবু ফোন করেছিল। তোমাকে চাইছিল। ”
” সুমিতের আর কাজ কী ! কানাডায় গিয়ে বউ- মেয়ে নিয়ে পড়ে আছে আর বুড়ি মাকে এই চম্পার ভরসায় রেখে গেছে, যে আমার একটাও কথা শোনেনা !” পিঠে বালিশের ঠেকা দিয়ে খাটে বসেই বলল আভা।

” কী মিথ্যে কথা বল গো তুমি, কে বলেছে আমি তোমার কথা শুনি না !” চম্পা প্রতিবাদ করল।
” এই তো এখনই শুনলি না। হাজারবার বলেছি আমার শরীরটা ভালো না, হঠাৎ আওয়াজে বুক ধড়ফড় করে। তবু তুই জানলা খোলা ছাড়লি।” আভা প্রমাণ দিল।

জিভ কেটে চম্পা বলল , ” সে একটু ভুল হয়ে গেছে। নীচে ওদের কান্ডকারখানা দেখছিলাম আর হাসছিলাম, তাই খেয়াল ছিল না ।”
” কী কান্ড দেখছিলি, আর এত আওয়াজই বা কিসের ?” আভা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল ।

” ওফ্ , তুমি না সব ভুলে যাও। কালকে সরস্বতী পুজো ছিল না , তাই তো ওরা প্যান্ডেলের সামনে বক্স বাজাচ্ছে, একটু আগে ছোট ছোট বাচ্চাদের যেমন খুশি সাজ করেছিল, কী দারুণ ! কেউ ফুচকাওয়ালা হয়েছে, কেউ বাউল, কেউ পাগল আরও কত কী! ওই দেখে হাসতে গিয়েই তো জানলাটা ঠিক করে বন্ধ করতে ভুলে গেছিলাম।” চম্পা উত্তর দিল ।

” তা তুই ও তো রঙ মেখে সঙ সাজতে পারতিস, তোর তো বয়সটাই বেড়েছে, বুদ্ধি তো বাড়েনি।” খাটে বসেই চম্পার করে আনা চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে আভা বলল।

” বললাম না , ওটা বাচ্চাদের। বড়দের নেবে না । বড়দের জন্য অন্য খেলা আছে ।” চম্পা বোঝানোর চেষ্টা করল ।
কাপের চা শেষ করে, একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আভা বলল ” এটা তুই ঠিক বলেছিস। বড়দের যেমন খুশি সাজ খেলার দরকার নেই , বড়রা যখন যেমন তখন তেমন সেজেই থাকে।”

গদ্য

কে_ঠিক_কে_ভুল শম্পা_সাহা
  কে ঠিক কে ভুল – শম্পা সাহা

আসলে ভালো মন্দ ভুল ঠিক বলে কিছু হয় না। যা তোমার কাছে ঠিক তা সামনের লোকের জন্য ভুল, আবার যেটা সে ঠিক মনে করছে সেটাকে তুমি ঠিক হিসেবে মেনে নিতে মোটেই রাজী নও।
তাহলে কে ঠিক আর কে ভুল?

আসলে দুজনেই ঠিক অথবা দুজনেই ভুল! সে যা বলছে, ঠিক বলে মনে করেছে তাই তো বলছে, আবার তোমার ক্ষেত্রে ও ঠিক তাই। তোমার বক্তব্য সঠিক বলে তুমি মনে করছো, তাই তো তুমি সোচ্চার!

রাতের বেলা বেড়োয় যে প্রাণী তার কাছে অন্ধকার ই চিরন্তন আবার দিবাচর দের কাছে দিন। এমনকি যে লোকটা সবার কাছে ভুল তবু সে চিৎকার করে যায় নিজের বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করতে, কারণ কিছু লোক জেনে শুনেও ভুল টাকেই জোর গলায় ঠিক বলে প্রচার করে তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কিন্তু তা নয়।

আর এখানেই যত গন্ডগোল, আমরা ভুলে যাই আমরা প্রতি টা মানুষ আলাদা, আমাদের চাহিদা আলাদা, পছন্দ আলাদা, ভালোলাগা, মন্দ লাগা গুলোও আলাদা। তাই সব সময় সবাই তোমার মতো করে ভাববে, বলবে এটা কি করে সম্ভব?

কিন্তু আমাদের সমস্যা হলো, আমরা নিজেদের মতামত জোর করে অন্যের উপর চাপিয়ে দিই,সব সময় সামনের লোক ভুল আর আমি ঠিক এটাই প্রমাণ করতে চাই। আর সেখানেই লাগে মতভেদ, ঝগড়া।

তাহলে কি ভুল ঠিক বলে কিছু হয় না? আমরা সামাজিক জীব, তাই অধিকাংশের জন্য যা ভালো তাই ঠিক, আর মেজরিটির জন্য যা ভুল তা ভুল। তবে এ সব ই আপেক্ষিক।ভুল, ঠিক, ন্যায়, অন্যায়, ভালো মন্দ তা বর্তমান পরিস্থিতিতে যা ঠিক কাল সময় বদলালে সমাজ বদলালে বদলাতে বাধ্য। সামাজিক ন্যায়ের মানদণ্ড ও পরিবর্তনশীল।

এক সময় গ্যালিলিও গ্যালিলি ছিলেন ভুল, কারণ মেজোরিটির কাছে তিনি ছিলেন ভুল কিন্তু তিনি আজ প্রমাণিত ঠিক। তাই সময়ের অপেক্ষা না করে, শুধু মেনে নিতে হবে যে সামনের লোকের বক্তব্য সবার জন্য কতটা ঠিক বা ভুল।

ঝগড়া নয়, তর্ক নয়, অশান্তি নয়, শুধু মাত্র বোঝার ক্ষমতা, নিজেকেও এবং অপরকে। মেনে মানিয়ে নেওয়া নয় শুধু একটু বোঝার মানসিকতা, ব্যস তাহলে সমাজের দাঁত নখ গুলো বোধহয় একটু গোটাবে , হয়ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *