Abhisek Saha

# অণুগল্প — অবিশ্বাস
# গল্পকার — অভিষেক সাহা

” ওই যে সামনে দোকান, যা খাওয়ার ইচ্ছা টাকা দিয়ে  কিনে খাও !” লোকটা নিতাইয়ের দিকে কটমট করে তাকিয়ে বিরক্তি মেশানো গলায় বলে চলে গেল।
সামনে দোকান আছে নিতাই জানে। শুধু সামনে কেন , এই আধঘন্টা ধরে হাঁটতে হাঁটতে অনেকগুলো দোকানই চোখে পড়েছে। কিন্তু কেউই ওর কথা বিশ্বাস করছে না। ট্রেন থেকে নামতেই নিতাই বুঝতে পারে ওর প্যান্টের ব্যাক পকেট থেকে কেউ ওর মানিব্যাগটা তুলে নিয়েছে। বাবা বারবার বলেছেন, এক জায়গায় সব টাকা না রাখতে। আজ ভুল হয়ে গেছে। সঙ্গের কাঁধব্যাগে একটা টাকাও রাখেনি। সেই সকাল দশটা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়েছে একটু চা – বিস্কুট খেয়ে। অনেক দিন পর একটা ভালো কাজের খবর পেয়ে উত্তেজনায় গলা থেকে আর কিছু নামেনি। এখন প্রায় সন্ধ্যে হতে চলল। এখনও প্রথমে বাস তারপর রিক্সা চড়ে গন্তব্যে যেতে হবে। কিন্তু সব টাকাই তো চোট হয়ে গেছে। খিদেও পেয়েছে খুব। যাকেই একথা বলছে নিতাই, সেই ভ্রু কুঁচকে মুচকি হেসে বলছে ,” একটু নতুন গল্প হলে ভালো হতো, এটা বড্ড পুরানো স্টাইল, ট্রেনে পকেটমার হয়ে গেছে, যত্তোসব!”
গন্তব্যে যাওয়া তো দূর, এখন পেটে কিছু দেওয়াও কি করে সম্ভব বুঝে উঠতে পারছে না নিতাই। এই লোকটাও বিশ্বাস করল না। মাথা চুলকাতে চুলকাতে সামনের দিকে এগোল নিতাই।
” কী হে ভাই, এদিকে নতুন নাকি? আগে তো দেখিনি ! কী দরকার ?” ভারী গলার ডাকে ঘুরে তাকালো নিতাই। গলা যতটা ভারী চেহারা মোটেও নয়। চোখবুজে শুনলে মনেই হবে না, এই শরীর থেকে এমন আওয়াজ আসতে পারে। পড়নের পোশাকও যে খুব ফিটফাট তাও নয়। এখন অবশ্য নিতাইয়ের কাছে কোনো অপশন নেই। যাওয়া এবং খাওয়া দু’টো করতে গেলেই টাকার দরকার। লোকটার কাছে গিয়ে নিজের ঘটনা বলল ও।
লোকটা চুপ করে সব শুনল। তারপরও চুপ করে ভাবতে থাকল।
” বিশ্বাস করুন আমি একটুও মিথ্যা বলছি না। মাত্র একশো টাকা পেলেই আমার চলবে। আপনার ফোন নম্বর আমায় দিয়ে দেবেন, আমি আপনাকে টাকা ফেরত দিয়ে যাব!” নিতাই মরিয়া হয়ে উঠল।
কী মনে করে লোকটা বুক পকেটে হাত ঢুকিয়ে একটা একশো টাকার নোট বের করে নিতাইয়ের হাতে দিয়ে একগাল হেসে বলল, ” বিশ্বাস করলাম। বেঁচে থাকতে সারাজীবন মানুষকে অবিশ্বাস করেছি , এখন মরে গিয়ে কবির কথা মনে পড়েছে, মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ !”

Leave a Comment

Your email address will not be published.