Amitava Mukhopadhyay

#ছোট গল্প
মানবতা
—————
অমিতাভ মুখোপাধ্যায়

নীলরতন সরকার হাসপাতাল. এক অসহায় মা অসুস্থ কন্যা সন্তানের জন্য ‘ও ‘গ্রুপের রক্তের সন্ধানে এঘর থেকে অন্য ঘরে ছোটাছুটি করছেন. তার মেয়ে সেলিমার জন্য ঐ গ্রুপের এক বোতল রক্তের বড় প্রয়োজন. ব্লাড ব্যাংকে আপাতত ঐ গ্রুপের রক্ত নেই. যাকে সামনে দেখছেন, তাকেই বলছেন, তোমার রক্তের কী গ্রুপ বাবা? মহিলাদেরও জিজ্ঞাসা করছেন, তোমার রক্তের কী গ্রুপ মা? সকলেই এক অনুসন্ধানী মা’র আবেদন শুনছেন. কেউ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, কেউ হাসপাতাল সুপারকে গালিগালাজ করছেন. কেউ বলছেন, ওয়ার্ড মাস্টারকে কিছু গুঁজে দিন, দেখবেন ‘ও ‘গ্রুপের রক্ত আপনার অসুস্থ মেয়ের বেডে পৌঁছে গেছে. কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না.
দূরে দাঁড়িয়ে কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার অরিন্দম সেন সবই লক্ষ করছিলেন. এবার এগিয়ে এসে রোগীর মাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার সমস্যাটা কী?
রোগীর মা বিনীত ভাবে বললেন,স্যার আমার মেয়ের অপারেশন পর এক বোতল ‘ও ‘গ্রুপের রক্ত লাগবে. কোথাও পাচ্ছি না, তুমি সেলিমার জন্য এক বোতল রক্ত জোগাড় করে দেবে বাবা? তোমাদের তো অনেক ক্ষমতা.

বাবা !মুহূর্তে অরিন্দমের সামনে ভেসে উঠলো প্রয়াত মা ‘র মুখ. মা ছোট বেলায় একবার বলেছিলেন, ‘রক্ত দেওয়া মহা পুণ্যের কাজ.’ ইতি পূর্বে বিভিন্ন ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্পে রক্ত দিয়েছে তরুণ অফিসার অরিন্দম. তার রক্তের গ্রুপও ‘ও ‘.
দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মাকে শান্ত হতে বললেন. সহকর্মীদের বললেন, আমি একটু আসছি.
চলুন মা, আপনার মেয়ের জন্য আমি রক্ত দোবো. অরিন্দম রোগীর মাকে নিয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসে গেলেন. সম্মতি দিয়ে নির্দিষ্ট বেডে শুয়ে পড়লেন. ডাক্তার বাবুরা দেখলেন, এক মানবিক পুলিশ অফিসারের মুখ.
সেলিমার মা’র দুচোখে তখন আনন্দাশ্রু.
‘তুমি আমার মেয়ের জীবন বাঁচালে আজ . তোমার রক্তের ঋণ কী ভাবে শোধ করবো বাবা? ‘
‘রক্তের ঋণ শোধ করা যায় না মা.
সেলিমা সুস্থ হলে বলবেন আজ থেকে আমি তার এক দাদা হলাম ‘.
সেলিমার যেদিন ছুটি হবে জানাবেন, আমি আর এক সপ্তাহ নীলরতনে-ই ডিউটি করবো.
উপস্থিত উৎসাহী রোগীর আত্মীয়-পরিজনরা সবই দেখলো, শুনলো. একজন মধ্য বয়স্ক ব্যক্তি এগিয়ে এসে অরিন্দমকে কর মর্দন করে বললেন, ‘আপনি মানবিকতার এক অনন্য নজির সৃষ্টি করলেন অফিসার.
জানলাম, বুঝলাম, ‘মানবতা’ এখনও মরে নি.
ঈশ্বর আপনার মঙ্গল করুন. ‘

*****************

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *