Binoy Das

  1. মানবীয় নাকি দানবীয় সত্বার বিকাশ

  2. বিনয় কৃষ্ণকমল

  3. একবিংশ শতাব্দীর মানুষ আমরা । বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এত উন্নয়ন, আছে ধর্মীয় রীতি নীতিবোধ, আছে মুক্ত চিন্তার উন্মুক্ত পরিবেশ, আছে কলাকৌশলগত বুদ্ধিবৃত্তি। এত কিছু থাকার পরেও আমরা মানুষেরা এখনও বড্ড সেকেলে, বড্ড আদিম । পাশবিকতা আমাদের অন্তরে তো আছেই, আর বাহিরে তো প্রতিনিয়তই প্রদর্শিত হচ্ছে এই দুই চোখে ।

    মদ (নিজের শ্রেষ্টত্বের অহংকার) আর মাৎসর্য (পরশ্রীকাতরতা) দুটোই অবগুন, যা আমাদের দেহ ঘরে লালিত হয় । অনেক সময় দেখা যায়, সামান্য একটা বিষয় নিয়ে অনেকের মধ্যে এইদুটো অবগুন প্রদর্শন প্রতিযোগিতা শুরু হয় । বস্তুত এই প্রতিযোগিতায় আমরা জিতলেও, আমাদের মানব সত্বা হেরে যায় ।

    প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, বিজ্ঞানশাস্ত্র, ধর্ম, ধর্মশাস্ত্র, সংস্কৃতি, নীতিশাস্ত্র, অর্থশাস্ত্র, সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান আরো নাম না জানা যত শিক্ষার উপকরন ও উপঢৌকন পৃথিবীতে বর্তমান রয়েছে, এসবের কোনো মূল্যই নেই যদি এসব আমাদের মানবত্ব এনে দিতে না পারে অথবা যদি আমাদের মানুষ হওয়া শেখাতে না পারে।

    সত্যিই মানুষ হওয়া মানুষের বড় সাধনা । পৃথিবীতে এত শিক্ষাকেন্দ্র, এত পাঠাগার, এত স্কুল, এত কলেজ, এত বিশ্ববিদ্যালয় এত গবেষনা কেন্দ্র , কিসের জন্য বলতে পারেন ? পৃথিবীকে সভ্যতার সাগরে ভাসানোর জন্য নাকি পৃথিবীকে চিরস্থায়ী করে রাখার জন্য ? না এসবের একটাও নয়৷
    পৃথিবীতে সভ্যতার বিকাশে যা কিছু সৃষ্টি সবকিছুই মানুষকে মানুষ করার জন্যই।

    কিন্তু বর্তমান সময়ে সভ্যতার উপকরণগুলো মানুষের মনুষ্যত্ব বিকাশের পথকে গোঁড়ায় গলধ করে দিচ্ছে । প্রতিটা শিক্ষাক্ষেত্র মানুষকে প্রতিযোগিতায় নামিয়ে দিয়েছে । অন্ন, বস্ত্র ও বিনোদনের মধ্যেই মানব জীবনকে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে । দানবীয় সত্বায় রূপ নিয়েছে মানবীয় সত্বাগুলো । কবে আমরা মানুষ হবো ?

    পরিশেষে গানটি একবার শুনে নেওয়া উচিত আমাদের…….

    মানুষ মানুষের জন্যে,
    জীবন জীবনের জন্যে,
    একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না,
    ও বন্ধু!

    মানুষ মানুষকে পণ্য করে,
    মানুষ মানুষকে জীবিকা করে…..

সমাপ্ত

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top