Dr. Taimur Khan

কবিতা সত্য ও জীবনের কাছাকাছি থাকে

🍁

তৈমুর খান

🍁

আমেরিকান পরাবাস্তববাদী কবি ও প্রকৌশলী, অবসরপ্রাপ্ত বই প্রকাশনার প্রধান কার্যকর্তা লি ব্যালেন্টাইনকে একটি সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল:

“কবিরা কেন কবিতা লেখেন?”

উত্তরে তিনি জানিয়েছিলেন:

“কবিতাই একমাত্র আমেরিকান শিল্পের রূপ যা অর্থের অভাবে বিকশিত এবং বিকাশ লাভ করে।”

তাঁর এ কথা বলার কারণ হচ্ছে,

ঔপন্যাসিকদের লেখায় সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ থাকে। চিত্রশিল্পীরা কোটিপতি সংগ্রাহকের স্বপ্ন দেখেন। ফিল্মমেকাররা শুধু লক্ষ লক্ষ স্বপ্নই দেখেন না, শালীন প্রজেক্টগুলি বাস্তবায়নের জন্য তাঁদের লক্ষ লক্ষ প্রয়োজন ও হয়। স্থপতি, সুরকার, অপেরা গায়ক, ফ্যাশন ডিজাইনার—তাদের সবারই একটি বড় বেতনের আশা রয়েছে।এমনকী বিজ্ঞানীদেরও গবেষণা তহবিল প্রয়োজন হয় । বিজ্ঞান এবং ব্যবসার মধ্যে সব সময়ই ঘূর্ণায়মান দরজা থাকে।কবিতাই একমাত্র শিল্প যার টেবিলে টাকা নেই। কবিতা চেকের মতো ক্যাশ করা যায় না যে এটা এত মূল্যবান হবে। কবিরা বিক্রির জন্য কবিতা লেখেন না। কবিতা সত্য ও জীবনের কাছাকাছি থাকে। সুতরাং সাহিত্যের অন্যান্য শাখার থেকে কবিতার গুরুত্ব কতখানি তা আমরাও অনুধাবন করতে পারি। কবিরা কোটিপতি হওয়ার জন্য কবিতা লেখেন না। তাঁদের অর্থ না থাকলেও, সত্য আছে। তাঁদের বিজ্ঞানের মতো আবিষ্কার না থাকলেও, প্রেম আছে। আর এই প্রেমের শক্তি বেশি বলেই তাঁদের কবিতা লেখাতেও ক্লান্তি আসে না।

বেশকিছু কবিতার বই পাঠ করতে গিয়েই উপরোক্ত কথাগুলির সত্যতা প্রমাণিত হলো।

অনিরুদ্ধ সুব্রতর কাব্যের নাম ‘নির্বাচিত শূন্য'(বইমেলা ২০২৩) ২৬ টি কবিতা নিয়ে এক মরমিয়া আলোক সত্তায় আত্মযাপনের নিবিড় ঘোরে সৃজন অনুসঙ্গে কবি ও কবিতার নিবিষ্ট সঙ্গম বেজে উঠেছে। কবি বলেছেন: “শব্দের অধরে পড়ে আছি সারারাত/ ভাবের ওষ্ঠে গেয়েছি কোন্ শাক্ত গান/ কবিতার মন্দিরে সে যে কী মৃদঙ্গ ধ্বনি/ ইহ বর্ণমালার, আহা প্লাবিত ভক্তিবাদ” ঝাঁক ঝাঁক উড়ন্ত পঙক্তিরা বাক্ মুখর হয়ে শরীরের জল ছুঁই ছুঁই চারণভূমি জুড়ে প্রত্নমাছের সন্ধান করেছে। চারণভূমি আসলেই চেতনালোক, প্রত্নমাছ অনুভূতির প্রজ্ঞায় সাজানো শব্দ। নীলাভ কাগজের মাঝখানে ফর্সা গোলাকার পরিবর্ধিত শূন্য যা রাত্রি ভেদ করে পূর্ণিমার চন্দ্রাসক্ত হৃদয়কেই তুলে ধরেছে। আর কল্পনা থেকে অনবরত মিসডকল্ ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও উল্লাসকে কবি বেঁধে রাখতে চাননি, স্বপ্নে সমুদ্রে দ্বীপের চিকচিকে পাথরে মৃত ঝিনুকের খোলসের মতো ক্ষত দেখে অগ্রসর হয়েছেন গাঢ় নীলে ডুব মারার জন্য। সেখানে কি শুধু মৃত্যু? হয়তো শান্ত হয়ে থামা। ‘সেকেন্ড হ্যান্ড লাইফ’ কবির কাছে অপার্থিব জীবনেরই মরমিয়াবাদ। যদিও হাভাতে চোখ কচলে মাটির বারান্দায় জীবন বন্দনাকে পুনর্বার শূন্য থেকেই জাগাতে চেয়েছেন। চোখের জলেই থালা ভর্তি ভিজে ভাতে জীবন মঞ্চের অভিনয় ক্ষান্ত করতে চেয়েছেন। কবি জানেন: ‘শিল্প তখনই সুন্দর হয়ে ওঠে যখন তা সত্য’। এই সত্যটিই শূন্যতার অবয়ব পেয়েছে এই কাব্যে।

সাইফুল ইসলামের লেখা ‘এক আকাশ চিঠি'(ফেব্রুয়ারি ২০২২) মোট ৫৮ টি কবিতার কাব্য সংকলন। ‘কবিকথা’ নামক কাব্যের ভূমিকায় কবি জানাচ্ছেন: “‘এক আকাশ চিঠি’ আমার হৃদয় উৎসারিত বর্ণমালা, জানা নানা অনুভূতির রঙে-বর্ণে-গন্ধে আমাকে উৎসাহিত করেছে।….. মনের আকুল আবেদন প্রকাশ করার একটি মাধ্যম কবিতা নামক চিঠি।” কবির কাছে কবিতা তো চিঠিই। এই চিঠি লেখে কবির হৃদয়। হৃদয়ে থাকে ভালোবাসা। প্রাণস্পন্দনের নানা মুহূর্ত। এই কাব্যের কবিতাগুলিতে তা-ই মুদ্রিত হয়েছে। সাইফুল ইসলাম পাঠককে মস্তিষ্কের জটিল মেধার অন্ধকারে নিয়ে যাননি, বরং হৃদয়াবেগে ডাক দিয়েছেন। তাই কবিতায় লিখেছেন: “আমি হিন্দু, আমি মুসলমান/ আমি জৈন বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান।/ আমি পড়ি গীতা, পড়ি কুরআন/ বাইবেল-বেদ কিংবা পুরাণ।/ আমি রাম, আমিই রহমান/ আমি পিটার কিংবা জ্যাকশান।/ কখনও মন্দিরে ঘন্টা বাজাই/ কখনও দিই মসজিদে আজান।” কবির সমন্বয়ী চেতনা মানবিকবোধের চূড়ান্ত পরিচয়। হানাহানি সংঘাতময় বিশ্বে এত রক্তপাত কবি দেখতে চাননি। চাননি মানুষে মানুষে বিভেদ। এই পৃথিবী সকলের জন্য। সকলেই সমান অধিকার ভোগ করবে। প্রত্যেকে পরস্পর পরস্পরকে ভালোবাসবে। তাই মানুষের অপমান দেখে কখনো কবির হৃদয় বিগলিত হয়েছে। নিষ্ঠুর শাসকের কাছেও কবির আবেদন অন্তত মানবিক হয়ে ওঠার। কবি কখনো আত্মবিশ্বাস হারাতে চাননি। তাই লিখেছেন: বেঁচে আছি আজো আমি/ আত্মবিশ্বাসের জোরে,/ সামনে পাহাড়, নদী, সাগর,/ নেবই জয় করে।” অর্থাৎ একদিন শান্তি ফিরবে। সহাবস্থান ফিরবে। পৃথিবী ভালো হবে। হৃদয়ে বাউলকে ধারণ করেই, বাংলা ভাষাকে লালন করেই, বর্ষা বসন্ত শীত গ্রীষ্মকে জীবনমহিমায় আশ্রিত করেই কবি এই পৃথিবীর মাটির মানুষ হয়ে উঠেছেন। সহজ সরল ভাষায় ভাবের অপপট প্রকাশে ছন্দের সুললিত মাধুর্যে কবিতার সাম্প্রতিক ধারার বিপরীতেই পথ হেঁটেছেন।

সঞ্জয় ঋষির ‘বটফলের কবিতা'(বইমেলা ২০১৯) পড়তে পড়তে চোখ ভিজে আসে, কবি কতটা জীবনানুসারি হতে পারেন তার পরিচয় পেয়ে যাই। আত্মকথনের ভেতর অনুভূতির টুকরা টুকরা পৃথিবী ঘুরপাক খেতে থাকে আর মগ্ন হয়ে উঠি জীবনের ক্ষয়, দৈন্য, বিষাদ, অভিমান, অপমান, জ্বালা, ঘাম ও নুনের গন্ধ শুঁকতে শুঁকতে। হতভাগ্য জীবনের বিতাড়ন কতটা মর্মন্তুদ হতে পারে তা তাঁর কবিতার কাছে বসে সেই তাপ অনুভব করি। নিরীহ সাদামাটা নির্বিবাদী জীবনচারী কবি জীবনের আলোকসন্ধানী। তাঁর যে শূন্যতা যে অবক্ষয় যাপনের অন্তরায় সেগুলিকেই কবিতা করে তুলেছেন। শব্দের সঙ্গে কথা বলেছেন। অনুভূতিকে বসতে বলেছেন সেখানেই। স্ববিরোধিতা এসেছে, পারিপাট্য ম্লান হয়ে গেছে, শতচ্ছিন্ন বসন্তের কোকিল যৌবনের কুসুমরাগে সুর তুলতে পারেনি। নিজের পরিচয় দিয়ে লিখেছেন: “চোখে তো আমার তোমার জল আছেই/ মানবজন্মে এটুকু ছাড়া আর কি করতে পারি!” ছোটখাটো মানুষ হয়ে, তুচ্ছ জীবনের অধিকারী হয়ে, ধুলোর ভিতর শুধু ধুলো হয়ে মাটি আর হাওয়ায় নিজেকে বিচ্ছিন্ন করেছেন। সমুদ্রের ক্ষয় দেখে নিজেরই বুকের ক্ষয় অনুভব করেছেন। বট ফলের উপর প্রেমিকার নাম লিখে বুকের লকেটে তাকে রাখতে চেয়েছেন। গুঁড়ো গুঁড়ো নক্ষত্রের ভিতর বাবা-মা এসেছে বিয়ে দিতে। কত গল্পের জন্ম হয়েছে তাঁর নিজেরই জীবনে। যা দেখেছেন তাতেই নিজেকে মিলিয়ে নিয়েছেন। তাই প্রাইমারি স্কুলে পড়তে গিয়ে ব্ল্যাকবোর্ডের গন্ধ পেয়েছেন। হাঁটতে হাঁটতে শ্মশানের পথ মেপেছেন। দুপুর সকাল বিকেল সন্ধ্যা একে একে ক্লান্ত হয়ে কবির কাছে ফিরে এসেছে। সবাই এসে জীবনের গল্প বলেছে। সেসব গল্প শুনতে শুনতেই কবির মনে হয়েছে:

“এ জীবন এখনও কতো সুন্দর। লেবু ফুল ফুটুস ফুটুস করে ফুটছে টুনটুনির ডাকে।”

লেবুফুল ফোটার শব্দ কেবল কবিই পান। গাছপালা, পশুপাখি, জনজীবনের ভিড়, প্রকৃতি, হাওয়া-বাতাস সবাই কবির কাছে এক একটি দৃশ্যের জন্ম দিয়েছে। দারুচিনি বনের গন্ধ নিতে নিতে কবিও বাতাস হয়ে গেছেন। সহজ দৈনন্দিন চিত্রের মাঝেও মহাকালের স্বাক্ষর কখনো কখনো জেগে উঠেছে: “আমাদের কলের ঘোড়ার উপর/ একটি লাল রঙের মগ/ সম্পর্ক তৈরি করে রাখে।” অথবা, দূরত্ব একটা স্টেশনের নাম।/ যেখানে কোনও রেলগাড়ি দাঁড়ায় না।/কেউ কারোর জন্য অপেক্ষা করে না।” ৬৪ পৃষ্ঠার কাব্যটি একটা ভিন্ন ধরনের আকর্ষণে বাংলা কবিতার পাঠককে এক স্নিগ্ধতা প্রদান করবে।

অসিকার রহমানের সম্প্রতি ‘শতচ্ছিন্ন কাফনের হাহাকার’ (ডিসেম্বর২০২২) ৫৪টি কবিতা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। অস্তরাগের আর্তি ও শূন্যতা নিয়ে এক বিমর্ষ বেদনার সুর ধ্বনিত হয়েছে এই কাব্যের কবিতাগুলিতে। কবি বলেছেন: “দাঁড়িয়ে আছি মৃত্যুউপত্যকার কিনারায়।” তাহলে জীবন কি ফুরিয়ে গেল? শব্দের আড়ালে নৈঃশব্দ্য এসে উপস্থিত হয়েছে। পৃথিবীর কান্না শুনেছেন কবিও। তাই লিখেছেন: “অশ্রুর শরিক আমি প্রত্যেকের মতো।/ অসুস্থ বড়োই এখন বেতস বাতাস।” কিন্তু মানবিক পরিষেবা এবং মানবিক পরিবেশ গড়ে উঠলে কবি তো হৃদয় দান করার জন্য ব্যস্ত হয়ে আছেন: “বুকের চাদর ছিঁড়ে বুক চিতিয়ে আছি/ তোমার বুকের তপ্ত ওমে স্নাত হবো।” হাজার প্রতিবন্ধকতা থাকলেও হাতে হাত রাখলে ভালোবাসারই স্পন্দন প্রত্যেকের বুকে বেজে উঠবে। তখনই “কোমল স্বপ্নের উৎসব” শুরু হবে। কাঁটাতারের বিভক্তি থাকবে না। মানুষ মানুষের কাছে ফিরে আসবে। মৃত্যু তখন আর কবিকে সন্ত্রস্ত করতে পারবে না। রবীন্দ্রনাথকে আপন করে নিয়েই কবি রবীন্দ্রনাথের কন্ঠেই উচ্চারণ করবেন: “সবচে বড়ো সুসংবাদ জানাবে তুমি/ মাটির পৃথিবী ছেড়ে যাবো না আর কোনোদিন।”

অনিবার্যভাবেই জীবন মৃত্যু লড়াই শুরু হবে সকলকে সঙ্গে নিয়েই। মর্তে বেজে উঠবে “মহেন্দ্রপুরীর মহেন্দ্রধ্বনি।” একাব্য তাই জীবনে ফিরে আসার এবং মানবিক পৃথিবীর কাছে অমরত্ব আদায়ের।

কবি সুবর্ণ রায়ের দুটি কাব্যগ্রন্থ: ‘ডুয়ার্সের খাতা থেকে'(ডিসেম্বর ২০২২) এবং ‘এক পঙক্তির সুবর্ণ'(জানুয়ারি ২০০৩) প্রকাশিত হয়েছে। ‘ডুয়ার্সের খাতা থেকে’ কাব্যে তিনটি পর্বে কবিতাগুলির সন্নিবেশ এক ডায়েরি রচনার মতো। ডুয়ার্সের বনজঙ্গল আর মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে কবির আত্মস্ফুরণে নানা উপলব্ধির বিকিরণ ধরা পড়েছে। জীবনের সঙ্গে প্রকৃতির ওতপ্রোত সম্পর্ক কতখানি গভীর তা এই কাব্যে কবি দেখিয়েছেন। প্রথম পর্বে লিখেছেন: “চা-বাগানের মেয়ে কাঞ্চন। নদীপাড়ের ছেলে চঞ্চল।/ চঞ্চল তোর্ষার তীরে কাঞ্চন শস্যের বীক্ষা।/ দলসিংপাড়ায় ভুবন ভোলানো মেঘ-বৃষ্টি।” ডুয়ার্স এখানেই ধরা পড়েছে। দ্বিতীয় পর্বে প্রকৃতি আবারও মানবিক এক ঔদাসীন্য নির্জনতা এনে দিয়েছে: “কলকল করে বয়ে যাচ্ছে উচ্ছল নদীখানি/ রাত্রি-পাথর-জ্যোৎস্না-নির্জনতা-পদযুগল/ সব মিলেমিশে যেন শূন্যতা অসীম—/ জলের কিনারে ঝুঁকে আছে ক্ষীণ প্রান্ত/ তোমার এলোচুল/ আর অরণ্য!” মন এখানে চঞ্চল হয়েও স্থিতি চেয়েছে প্রেমের কাছে। তাই আলোর হাতছানিতে প্রতিটি পাহাড়ের ঢাল রঙিন বর্ণময়ী প্রেমিকার মতো। চুল ছড়ানো বিকেলের মেঘমালা ভিনদেশী রমণীর মতো মায়াবী সত্তা ধারণ করেছে। কবি আমাদেরও বিস্মিত করেন।

‘এক পঙতির সুবর্ণ’ কাব্যটি সংকলন ও সম্পাদনা করেছেন আফিফ ফুয়াদ এবং ভূমিকা লিখেছেন তপোধীর ভট্টাচার্য। মোট সাতটি এক পঙক্তির কাব্য ‘দুর্গম নির্জনতায় নিজস্ব বিভ্রম’, ‘হৃদয়ের হিরণ্য আলোকে’, ‘দুয়ারে এসে দাঁড়াই’,’শ্রাবণের মেঘ ঝরিয়া যায়’, ‘মাস্কে ঢাকা মেঘ’, ‘পর্ণমোচী বৃক্ষ তোমাকে’, ‘হেমন্ত বিকেলের কবিতা’ ও ‘অগ্রন্থিত এক পঙক্তি’ নিয়ে এই সংকলন। সুবর্ণ এক পঙক্তির কবিতায় যে কাব্য নির্মিতির উচ্ছল প্রজ্ঞায় চমৎকৃত করেছেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একটি নৈঃশব্দ্যের বিস্তারের সঙ্গে দার্শনিক অনুভবনাও জীবনের সীমানাকে অতিক্রম করেছে। এরকমই কয়েকটি পঙক্তি: “চৌকাঠ থেকে একটা জোনাকি উড়ে যেতে চায় দূর আকাশের তারা হয়ে মাঝরাতে” তখন অনন্ত যাত্রার প্রজ্ঞাময় এক ব্যাপ্তির সম্মুখীন হতে পারি। আবার যখন বলেন: “পর্ণমোচী বৃক্ষ সব পাতা ঝরিয়ে বিরহিণী রাধা, হাওয়ায় শুধু মুরলী সুর” তখন পর্ণমোচী বৃক্ষকে মানবিক চৈতন্যের প্রজ্ঞায় সমর্পিত হতে দেখি। জীবন প্রবাহ গড্ডলিকা হলেও জীবনের কি কোনও ঠিকানা আছে? এই প্রশ্নের কাছে দাঁড়িয়ে কবি উত্তর দেন: “সব পথের ঠিকানা নেই সব ঠিকানার পথ নেই, তবু চলা অবিরাম” জীবনের এই চলাকেই উপলব্ধি করতে পারছি কবির এক পঙক্তিতে। মহামারির সময়কালে দাঁড়িয়ে এক মৃত্যুর প্রকীর্ণ অসহায়ত্বকে কবি দেখেছেন। তাই এক পঙক্তিতে যতখানি নিস্তব্ধতা, ততখানি বাক সংযম অনুভূতির প্রখরতা। সব মিলিয়েই কাব্যখানি এক ভিন্ন কাব্য নির্মিতি।

🐦

১,নির্বাচিত শূন্য :অনিরুদ্ধ সুব্রত, সুতরাং প্রকাশনী, বাণীপুর, উত্তর ২৪ পরগণা-৭৪৩২৩৩, প্রচ্ছদ তুষারকান্তি রায়, মূল্য ৮০ টাকা।

বাংলা সাহিত্য

২, এর আকাশ চিঠি : সাইফুল ইসলাম, বর্ণকোষ প্রকাশন, ৩২০ মোড়, বাঁশবাড়ি, মালদা-৭৩২১০১, মূল্য ১০০ টাকা।

বাংলা সাহিত্য

৩, বটফলের কবিতা:সঞ্জয় ঋষি, সুতরাং প্রকাশনী, বাণীপুর, উত্তর ২৪ পরগণা-৭৪৩২৩৩, প্রচ্ছদ:মৌমিতা ভট্টাচার্য,মূল্য ১০০ টাকা।

বাংলা সাহিত্য

৪,শতচ্ছিন্ন কাফনের হাহাকার: অসিকার রহমান, ব্লুমস্ প্রকাশনী, চাঁদপুর, সোনারপুর, কলকাতা-১৫০,প্রচ্ছদ:তুষার আচার্য, মূল্য ২০০ টাকা।

বাংলা সাহিত্য

৫, ডুয়ার্সের খাতা থেকে :সুবর্ণ রায়, লেখাজোকা পাবলিশার্স, ৬,ধর্মতলা লেন, ভদ্রকালী, হুগলি, প্রচ্ছদ:দীপন বোস, মূল্য ২০০ টাকা।

বাংলা সাহিত্য

৬, এক পঙক্তির সুবর্ণ : সুবর্ণ রায়, দিবারাত্রির কাব্য, ২৩ বেনিয়াটোলা লেন, কলকাতা-৭০০০০৯, প্রচ্ছদ: ফয়সল অরফিয়াস, মূল্য ২৫০ টাকা।

বাংলা সাহিত্য

বই রিভিউ

Leave a Reply