Jewel Khan

অবেলায়..

জুয়েল খান

মবিন সাহেব । জগতের অনেক কিছুতেই তার তেমন কোনো আগ্রহ নেই আবার রহস্য খুঁজে বেড়ান সামান্য কিছুতেও।জীবন কখনো তার কাছে দারুণ বিশ্লেষণধর্মী আবার কখনো তেমন কিছুই না এই ভেবে যে নিশ্বাস থেমে যাওয়া মানেইতো জাগতিক সবটার শেষ।

একমাত্র ছেলে তুহিন ।স্কলারশিপ নিয়ে পাড়ি জমিয়েছে সুদূর নিউজার্সি। পাঁচ বছর হয়ে গেল ছেলে আসেনি আর।অবশ্য এ নিয়ে তার আপত্তি বা আগ্রহও নেই তেমন।গতমাসে ছেলে জানিয়েছে সে বিয়ে করেছে,তবে কাকে করেছে বা মেয়ে বাংলাদেশী কিনা তা স্পষ্ট করেনি চিঠিতে।

ছেলের সাথে তার এই দূরত্বের কারন কি তা তিনি জানেন না।মায়ের মৃত্যু তুহিন স্বাভাবিক ভাবে নেয়নি এটুকু বুঝতে পেরেছেন শুধু। কিছুটা ঘৃনা জমেছে বাবার প্রতি ছেলের।দারুণ সন্দেহ থেকেই ছেলে বাবার এই বৈরীতা।

একাকিত্ব দারুণ পেয়ে বসে মবিন সাহেবকে ইদানীং কিন্তু তিনি তা দারুণ অনুভব করেন এবং বিশ্বাস করেন জীবন অনুভবের সবচাইতে সুন্দর ক্ষনই একাকিত্ব।
নিলুফারকে ভালোবাসতেন কিনা তিনি নিজেকে প্রাই জিজ্ঞেস করেন। কেনো উত্তর পান-না মন থেকে। মবিন সাহেবের মা পছন্দ করেই ছেলের জন্য বউ এনেছিলেন গ্রাম থেকে। এমন লক্ষি মেয়ে আনতে পেরে ছেলের জন্য তিনি দারুণ গর্বিত ছিলেন।

মা মারা গেলেন বিয়ের ঠিক পাঁচ বছর পরে আর নিলুফার সে পথ ধরলেন ঠিক ১৭ বছর পর যখন তুহিনের বয়স ১৫। নিলুফারের মৃত্যু কেউই স্বাভাবিক ভাবে নেয়নি কিন্তু কেন..!! কেন তার দিকেই সবাই আড়চোখে তাকালো প্রশ্নটা নিজের কাছেই রাখেন তিনি।কেন একমাত্র ছেলেও তার দিকেই আড়চোখে তাকালো তিনি নিজেকেই প্রশ্ন করেন।

চারপাশটার কথা ভেবে মানুষ কত কি মেনে নেয়,মানিয়ে নেয়। কিন্তু মন কতটা মানিয়ে নেয় মৌন থেকে?
ক্ষোভ জমে, জমতেই থাকে।

ভালোবাসা গুলো কেন এমন হয়?
কেন প্রকাশ করা হয়না অনুভূতির সবটা..!!

চশমার ফাকে মবিন সাহেবের দৃষ্টি অস্পষ্ট। তিনি কি এই জাগতিক পৃথিবীর কিছু দেখছেন,শুনছেন কত শব্দ চারিদিকে?
মবিন সাহেব হয়তো অনেক অনেক পথ পেরিয়েছেন।

 

(শেষ)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top