Jewel Khan

বৃষ্টি

জুয়েল খান

 

ঘুম থেকে উঠেই একটা সিগারেট না ধরালে হয়না রন্জুর।এ বাজে অভ্যাস ঠিক কবে থেকে কি করে শুরু হলো তা-ও জানা নেই। যতদূর মনে পড়ে মিলির সাথে ছাড়াছাড়ির পরে এমন আরো অনেক বাজে অভ্যাসের সাথে জড়িয়ে পরেছে রন্জুর জীবন। সকালের খাবার দুপুরে খাওয়া,রাত করে বাড়ি ফেরা,আত্নীয় স্বজনের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা,সময় জ্ঞানহিন হয়ে পরা সহ আরো কত কি।অবশ্য এসব কিছুতে কিছুই যায় আসে না রঞ্জুর। এমন থাকবে বলেইতো নিজেকে এমন গুটিয়ে নিয়েছে সে।

গতরাতে বৃষ্টিতে ভিজে শরীর কিছুটা অসুস্থ অসুস্থ লাগছে।এক জীবন শুধু সুস্থতায় যাবে তাও ঠিক না, মাঝে মাঝে অসুস্থ হতেই হয় আবার নতুন করে শুরু করার জন্যে। মাথাটা কেমন ঝিম ঝিম করছে সাথে চোখ গুলোও কেমন যেন আলো নিতে চাইছে না পৃথিবীর।আরো কিছুক্ষন বিছানায় পরে থাকাটা জরুরি।

হঠাৎ মনে পড়লো বড়ো মামা ঠিক বারোটায় তার অফিসে যেতে বলেছেন।সময়ের ব্যাপারে তিনি বেশ সচেতন এবং পাঁচ মিনিট এদিক সেদিক হলেই যত বিশাল ব্যাপারি হোক না কেন তিনি আর কথা বলবেন না।শুধু বড়ো মামা-ই নন রঞ্জুর মা এবং নানাজান এমনই ছিলেন।রন্জুও এমনই ছিলো কিন্তু সব কিছুতে সমস্যা দেখা দিলো মিলির সাথে ছাড়াছাড়ির পরই।

মামা আসবো?
হুম এসো বলেই মামা ঘড়ির দিকে তাকালেন কিন্তু কিছুই বললেন না শুধু বললেন তোমার কি আজ কোনো তাড়া আছে?
বল্লাম না মামা তেমন তাড়া নেই।
তুমি কিছুক্ষন সময় চাইলে বাহিরেও কাটিয়ে আসতে পারো কারন আমি তোমাকে নিয়ে দুপুর দুইটায় বের হবো বলেই মামা সামনে পড়ে থাকা ফাইলে মন দিলেন।

এই দু’ঘন্টা কি করা যায় ভেবে রাস্তায় বের হলাম। আকাশে মেঘ করে আছে ভিষণ, বৃষ্টি নামবে।মিলি বৃষ্টি পছন্দ করতো খুব।বৃষ্টি এলো আর মিলি ভিজবেনা এমনটা কখনোই হয়নি।

রাস্তার পাশে একটা ঝুপড়ি দোকানে গিয়ে বসলো রন্জু।চা সিগারেট দিয়েই সময়টা কাটানো যাবে এই উদ্দেশ্য।
ঠিক দু’টায় মামার সামনে গিয়ে হাজির হলাম।
দুপুরে কিছু খেয়েছো?
না মামা।
ওকে চলো বাহিরে কোথাও খেয়ে নিব।
জ্বি আচ্ছা।
কোথায় যাচ্ছি জানতে ইচ্ছে করছে?
রন্জু কিছুই বললো না।মামা বললেন চলো বেড়িয়ে পরা যাক।

মামার নীল রঙ্গের নতুন গাড়িতে করে পাশে বসে যাচ্ছি।বড়ো মামা আমার দিকে তাকালেন।
রন্জু আমরা হসপিটাল যাচ্ছি। মিলি খুবি অসুস্থ। মিলির আম্মা সকালে ফোন করে জানালেন গত রাত থেকেই মিলির জ্ঞান ফিরছেনা।
আমাকে কি মিলির আম্মা যেতে বলেছেন মামা?
হুম..ভদ্রমহিলা তোমাকে যেতে বলেছেন।
রন্জু গাড়ির ভেতর থেকে বাহিরে তাকালো।মেঘে মেঘে ছেয়ে আছে আকাশ কিন্তু বৃষ্টি কেন হচ্ছে না বুঝতে পারছেনা।মিলির বৃষ্টি পছন্দ ভীষণ।
রন্জু..
জ্বি মামা?
মিলির অসুখটার কথা কি তুমি জানতে?
না মামা
মিলি যখন তোমাকে ডিভোর্স দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলো তখন তোমার পদক্ষেপ কি ছিলো?
আমি কিছুই জানতে চাইনি মামা।
কেন?
ও প্রশ্ন করা পছন্দ করতো না।
তাই বলে জানতে চাইবে না তুমি?
রন্জুর চোখ বেয়ে জল পড়লো..
বাহিরে তাকিয়ে বুঝতে পারলো বৃষ্টি হচ্ছে খুব।

হসপিটাল পৌছাতেই চোখে পড়লো মিলির আম্মা দাড়িয়ে আছেন ভাবলেশহীন। সাইরেন বাজিয়ে সাদা এ্যাম্বুল্যানস ছুটছে। মিলির মা তাকিয়ে আছেন সেদিকেই।
ঝুম বৃষ্টি নেমেছে আজ।বৃষ্টি মিলির খুব পছন্দের।

(শেষ)

 

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top