MD SELIM REZA

বার্তা
মুহাম্মদ সেলিম রেজা
—-      —-     —-
‘ লোভ মানুষকে পতিত করে। কখনও অন্যের জিনিসে হাত দেবে না। কারও সাফল্য দেখে ঈর্ষান্বিত হবে না, তাৎক্ষণিক সুখের মোহে সৎপথ পরিহার করবে না।’ বলছিলেন আমার এক সহপাঠী ও অন্তরঙ্গ বন্ধুর বাবা। সেদিন তিনি আরও বলেছিলেন, ‘পরিশ্রমের বিকল্প হয় না। লক্ষ্য স্থির রেখে পরিশ্রম করলে সাফল্য আপনা থেকে এসে ধরা দেয়।’ এরপর, নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান হয়েও পরিশ্রমের জোরে তিনি নিজেকে কীভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তা বর্ণনা করে শুনিয়েছিলেন।
তখন আমি কলেজ পড়ুয়া, হোস্টেলে থাকি। ঈদের ছুটিতে ক’দিনের জন্য বাড়ি এসেছি। এক বিকেলে বন্ধুর সাথে দেখা করতে তাদের বাড়ি গেলে তিনি এসব কথা বলছিলেন। ভালো লাগছিল তাঁর কথা, শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী একঘন্টার মধ্যে তিনি এমন এক কাণ্ড করলেন, ভালোলাগার পারদ অচিরেই তলানিতে এসে ঠেকল।
সহপাঠীর দাদা পায়রার সৌখিন। তাদের খাঁচায় অনেক পায়রা আছে। বকম-বকম শব্দে বাড়ি মুখর হয়ে থাকে সবসময়। সন্ধ্যা নামতে বন্ধুর মা একবাটি সরসের দানা  ছড়িয়ে দিলেন আগনায়। বুঝতে পেরে পাখিগুলো খাঁচা থেকে বেরিয়ে এসে দানা খেতে শুরু করল। আমি মোহিত হয়ে ওদের খাওয়া দেখছিলাম। বিশেষ করে ছাইরঙের একটা পায়রার উপর আমার চোখ ছিল।  তার ভাবভঙ্গি, আচার-আচরণ অন্যদের থেকে আলাদা। খাচ্ছিল না ঠিকঠাক, এক-দু’ঠোকর দিচ্ছে আর এদিক-ওদিক দেখছে। কখনও একটু দূরে চলে যাচ্ছিল, পরক্ষণে ফিরে এসে দানা ঠোকরাচ্ছিল।
দানা খাওয়া শেষ করে সবাই বাসায় চলে গেলেও ছাইরঙের পাখিটা আগনায় ইতিউতি ঘোরাঘুরি করছিল। হঠাৎ দেখি বন্ধুর দাদা মাছ ধরার জাল নিয়ে গুটিগুটি এগিয়ে এসে পাখিটার উপর নিক্ষেপ করলেন। পাখিটা জালে জড়িয়ে গিয়ে ছটপট করতে লাগল। আমি জানতে চাইলাম, ‘ কী ব্যপার?’
বন্ধুর বাবা বললেন, ‘ক’দিন থেকে পাখিটা বদমাইশি করছে। খাঁচায় উঠছে না।’
বন্ধুর দাদা পাখিটাকে জাল থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে অন্যদিকে চলে গেলেন। আমরা আবার পুরোনো আলোচনায় ফিরে গেলাম। কথায় কথায় অন্ধকার ঘনিয়ে এল। এবার বাড়ি ফিরতে হবে, উঠে দাঁড়ালাম।
এমনসময় ওপাড়ার একটা লোক হাপাতে হাপাতে এসে বন্ধুর বাবাকে উদ্দেশ্য করে বলল,’ বড়ভাই একটা আলগা কবুতর তোমাদের খাঁচায় ওঠেনি?’
‘ নাতো!’
‘ ছোট ছোট বাচ্চা আছে, না খেতে পেয়ে মরে যাবে। একটু দেখো না ভালো করে।’ মিউ মিউ করে বলল লোকটা।
‘কী দেখব রে? বললাম তো নেই। যা এখান থেকে। ‘ বন্ধুর বাবা তড়াক করে লাফিয়ে উঠলেন লাঠি হাতে।
লোকটা আর কোন কথা বলার সাহস পেল না,সুড়সুড় করে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেল। খানিক বাদে আমিও বন্ধুর বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলাম। পথ চলতে চলতে একটা চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকল,’ তিনি যা বললেন এবং করলেন, কোনটাকে বার্তা হিসাবে ধরব?
—–

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top