Md Shohidullah

মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ

১)
জায়মান


ঝিমিয়ে পড়া জবার পাপড়িতে
চুমু খেতে পারার সমাপিকা সুখ,
করাল গ্রাসে ধূসর চরাচর,
নির্বিশেষে কুটজাল ছিন্নভিন্ন
অলৌকিক বৃষ্টিতে।

রক্তপাতের সাথে দেখা
কৌশলের এ,বি,সি,ডি —-
বিষন্ন ধারাপাতমুখর অলিগলি
বড্ড বেসামাল ।

অবরুদ্ধ জনসমুদ্রে
বান ডেকেছে,
আমার বোধের করিডোর
থেকে গেছে
জায়মান প্রচ্ছায়া হয়ে
শ্যামলিমায়।


২)
অনুরোধ সবিনয়


নিয়ে যাও স্বপ্নের সমুদয় সজীবতা–
পল্লবে,বল্কলে,শেকড়ের পুরোভাগ,
তোমারই চাঁদপুর
খুঁজতে বেরিয়েছে
কেবল তুমি-তুমি জোছনায়।

পাহাড়ি রাস্তায় বন্ধুর মাটির চিবুকে
তোমারই প্রনয়ণ
খুঁজতে বেরিয়েছে।

নিরন্তর একতারায় বিভাজিত বিষাদে
করুণ হৃদয়টা!
বিদীর্ণ করার গান নিয়ে
তুফান জাগায়
যখন তখন।
মেঘবালিকারা তাই
নিকষ কালো চুলের পয়ার ছন্দে
ডুবতে বসেছে আশ্বিনে।


৩)
অবমূল্যায়ন


জমজমাট ম্যাচের মতো
বন্দরে বন্দরে কোলাহল,
অপেক্ষায় থাকে।
একটা দুইটা তুখোর উইকেটের পতন
অভিনব কৌশলে,নড়েচড়ে বসে চারপাশ।

একটা দুইটা লাবন্যঘেঁষা সুতোর বুননে
অবিরাম তৃপ্তির অশেষ কৃতজ্ঞতা।
কবির আক্ষরিক সমাবেশে অতি সাধারণ যারা, তারাই গড়েছে ঘাম-জর্জর
ঐতিহাসিক বাস্তবতার
নিখাদ কতিপয় মুগ্ধতা।

জবাবে যদি না মেলে কিছুই,
তীর্যক দুষ্পর্শের আবহে
মিলিয়ে যাবে প্রশান্তির উর্মিমালা।


৪)
এড়িয়ে যাওয়ার ছলে-কৌশলে


ঢেকে রেখে গেছে কেউ
আমাদের মর্মবেদীমূলে আঘাতের
শতচ্ছিন্ন জামার মতো সকাতর অনুভব।
রোজকার রোজগেরে হাতে
রজনীগন্ধার হাসিটা নিয়ে যাবার কথাইতো ছিলো
মোহাবিষ্ট বলয়ের বাইরে।

অভিন্ন সমতল মনোভূমির
শৈলমুখর সৈকতে
মরা প্রবাল কুড়িয়ে আনি তবু,
ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে মঞ্চের দিকে ধাবমান সবাই।

আচমকা আটকে থাকা
লক্ষ -কোটি অমৃত বচন শুনবার
মেলেনা মেলেনা
অন্তক্ষরা অবসর।


৫)
সর্বদাই ছিনতাই


চেয়ে যাই
অবিশ্রান্ত ঝিঁঝি পোকার
নিমগ্ন সন্ধ্যার পূরবী,
আশ্বিনের হিম হিম আগমনীর ভেলায়
ভেসে আসা ভাসানের করুণ কীর্তন।

চেয়ে যাই তালবিরিক্ষির ব্যস্ত বাবুই,
পদ্ম ছাওয়া ঝিলে ডাহুকের
অনবদ্য শালুকদুপুর,

চেয়ে যাই শিউলিমেয়ের সলাজ হাসি,
অকৃত্রিম রসবোধে আদুল আমন্ত্রণে
অতিথি হতে—–

সব কিছুই হলো ছিনতাই
কোনো রকমের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই।

Leave a Reply