Nanda Mukherjee

অনুগল্প

রক্তের কোন জাত নেই

নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী

“আব্বাস চাচা,অনেকদিন পর তোমার সাথে দেখা । সেই যে তুমি রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসলে ,তারপর আর দেখা হয়নি । কেমন আছ ?কোথায় থাকো এখন ?” একনাগাড়ে কথাগুলি বলে গেলো সুজন ।

 

আব্বাস আলীর বয়স চল্লিশের কোঠায় এখন । ভাই ,ভাইবৌয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি যখন ঘর ছাড়েন তখন তার বয়স বছর আঠাস । বিয়ে থা করেননি । ড্রাইভিংটা ভালোই জানতেন । একটা কাজও পেয়ে যান সোমেন মুখার্জীর বাড়িতে । আব্বাস আলীর ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে , থাকার কোন জায়গা নেই জানতে পেরে সোমেনবাবু তারই বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দেন । সোমেনবাবুর ছেলে ,মেয়ে দুটিকে আব্বাস আলী নিজের প্রাণের থেকে বেশী ভালবাসেন । মেয়ে বড় ,ছেলে ছোট । আজ স্কুলে মেয়েটি সিঁড়ি দিয়ে নামতে- পরে গিয়ে মাথায় মারত্মক ভাবে আঘাত পায় ,প্রচুর রক্ত ক্ষরনও হয় । বেশ কয়েকটি সেলাইও পরে । রক্তও দিতে হয় । রক্তের গ্রুপ এ নেগেটিভ । বাড়ির কারও সাথেই তার রক্ত মেলেনা । ব্লাড ব্যাংকে তখন এ নেগেটিভ গ্রুপের কোন রক্ত ছিলোনা । তখন আব্বাস আলী এসে সোমেনবাবুকে বলেন ,” ভাইজান ,সব জাতীর রক্তই তো লাল । দেখেন না মামনির রক্তের সাথে আমার রক্ত মেলে কিনা ।” সঙ্গে সঙ্গে রক্ত পরীক্ষা হয় -দেখা যায় আব্বাস আলীর রক্তের গ্রুপ আর সোমেনবাবুর মেয়ের রক্তের গ্রুপ এক ।

 

ফিরে পায় সোমেনবাবুর মেয়ে জীবন । আর আব্বাস আলী টানা দু’দিন নারর্সিং হোমে বসে । সে তার মামনিকে না নিয়ে বাড়ি ফিরবে না । সোমেনবাবুর শত অনুরোধও তাকে টলাতে পারেনি ।

 

সুজনকে কথাগুলি বলতে বলতে আব্বাস আলী হাউ হাউ করে কাঁদতে থাকেন । সুমন তাকে বলে,”সব জাতীর মানুষের রক্তই তো লাল । মানুষের বিচার হয় তার মনুষ্যত্ব আর মানবিকতা দিয়ে । চাচা, জাত দেখে তো মানুষের বিচার হয়না । তোমার রক্ত নিয়ে তোমার মামনি দেখো ঠিক সুস্থ্য হয়ে যাবে ।তুমি চিন্তা করনা । আব্বাস আলী দু’হাত উপরে তুলে তার খোদাতালার কাছে তার মামনির জন্য মোনাজাত করতে লাগে ।

শেষ

 

@নন্দা 12-7-17 1-20AM

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top