Paromita Mondal

একটু অস্তিত্ব রেখো
-পারমিতা মণ্ডল

ইচ্ছে করে তোকে নিয়ে শখানেক গল্প লিখতে,
কিন্তু সব ইচ্ছে কি আর পূরণ হয় রে।
তোকে নিয়ে যতবার আমার গল্পে শব্দের ধনুকে ছিলা পরাতে যাই ততবারই টান লেগে বাকা ধনুকটা নতুন করে ভেঙ্গে যায়।
আমার খুব ইচ্ছে করে রোজ দূপুরে যখন সবাই গভীর ঘুমে মগ্ন হবে তখন আমি খিড়কি দিয়ে পালিয়ে গিয়ে ছিপ নিয়ে খালের পাড়ে চুপটি করে বসব।
হঠাৎ করেই তুই এসে কাধে হাত রাখবি,
কয়েকটা মুড়কি নিয়ে আসিস তো।
কতদিন খায় নি।
তুই যাবার পর থেকে কেউ বানিয়ে আর দেই নি।
আমি যে এত ভাবছি!
সত্যি কি তুই আসবি আর কখনো?
কত ভাবি তোকে নিয়ে হাজার হাজার শব্দের জাল বুনব।
সেই জালে যখন মাছ উঠবে দু’জনে রাধব,
বাড়ব,
মজা করে খাব।
কিন্তু তুই তো আসবি না।
তোকে নিয়ে কোনো গল্প ও আর লেখা হবে না।
বোনা হবে না কোনো শব্দের জাল।
তাই বলে ভাবিস না তোর কাছে আমি শব্দঋণী হয়ে থাকব চিরকাল।
আমার তোকে নিয়ে গল্প লিখতে খুব ইচ্ছে করে জানিস তো,,
খুব করে।
কিন্তু আমি পারি না।
আর,যখন পারি না,
তখন বুকের ভিতরটা পুড়ে খাক হয়ে যায়।
দাবানলের বহ্নিগর্ভা শিখার মতো শরীরের প্রত্যেকটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে যেন ছিটকে পড়ে।
তখন মনে হয় অশরীরিণী হলে বোধ হয় ভালো হতো।
কেমন একটা নিঃসাড় আর্তনাদ তোলপাড় সৃষ্টি করে এক একটা হিমোগ্লোবিনের কণিকায়।
শিরা উপশিরা ধমনী যেন অবশ হয়ে আসে।
আঃ……..।
আর যে পারছি না এ যন্ত্রণা দাঁতে দাঁত পিষে সহ্য করতে।
কি করবো?
আমি যে আার পারি নে।
এই প্রকৃতির আকাশ, বাতাস, শাখায় শাখায় ফোটা প্রত্যেকটি কুঁড়ি আমায় উৎসাহ দেয়,
আরো চেষ্টা করো,
তুমি পারবে,
পারবেই তুমি।
যে তোমার অন্তরাত্মার পাতাল বিস্তারকারী,
কলকল ধ্বনির শীতল স্রোতোবহা অন্তঃপট,
যার মুখনিঃসৃত প্রতিটা বাক্যাংশ তোমার জীবনের সার….
তুমি তাকে অমর করতে পারবে না?
তুমি না পারলে এই জগৎসংসারে তাকে কে জীবন্ত করে রাখবে?
তুমি কি জানো না, এ জগতে তোমা ভিন্ন কেউ তাকে সর্বাধিক ভালবাসেনি?
জানো না তুমি?

নাঃ নাঃ নাঃ। চুপ করো। আমি কিছু শুনতে চাই না। আর কিছু বলো না তুমি।
বসন্তে জন্ম নেওয়া প্রত্যেক পত্র কি হেমন্তে ঝরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয় না?
বৃষ্টি কি ধরার বুকে তৃষ্ণা মেটাতে আছড়ে পড়ে না? মনে করো আমার প্রেম ও তেমন ছিল।

ভুল ভাবছো তুমি কবি।
প্রেম কি কখনো মরে! সে তো অমর।
হেমন্তে যে পাতা ঝরে পড়ে সে তার জীবনকে সার্থক করে।
কিভাবে জানো?
আত্মত্যাগের মাধ্যমে। তার কিন্তু কোনো মোহ নেই।
আর বৃষ্টি!
ক’জন বোঝে বৃষ্টির মাহাত্ম্য আমায় বলতে পারো কবি?
জানো আমি কোথায় যেন শুনেছিলাম বৃষ্টিকে কেউ কেউ নাকি উপলব্ধি করে আর বাকিরা ভিজে যায়।
তুমি কোন দলে?
যদি প্রথম দলে হও তবে বলব,
তুমি পারবে।
অবশ্যই পারবে।
আর যদি দ্বিতীয় দলে হও তাহলে বলব তুমি এখনি মরে যাও।
আমি নিশ্চিহ্ন করে দেব তোমার অস্তিত্ব।
পরবর্তী প্রজন্মের কেউ জানবে না কখনো তুমি এসেছিলে।
আজ তোমার প্রেম মরেছে বলে তুমি এমন করছো।

কিন্তু তুমি কি জানো সাহিত্যে মরা মানুষ ও অমৃত পান করে অমর হয়ে ওঠে?

তোমার প্রেম কি এতটাই ঠুঙ্ক?
না কবি।

আমি এই প্রকৃতি, তোমার সব কষ্ট সহ্য করে নেব তবু তোমাকে ঝরতে দেব না।

দাও!
আমার শিকড়ে ঢেলে দাও।
তোমার ঐ কালকুট বিষ আমার কাছে অমৃত।

শুধু একটা অনুরোধ,
প্রেমকে কখনো গলা টিপে মেরে ফেলো না।
একটা বৃক্ষ লাগিয়ে যেও যাতে তুমি মরার পরে আমি
পরবর্তী হাজার প্রজন্ম কে বলতে পারি,

তুমি এসেছিলে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top