Ratan Basak

শিরোনাম  – ” শৈশব হলো মানুষের জীবনে সবথেকে ভালো সময় । ”

কলমে – রতন বসাক

প্রাণের অস্তিত্ব এখন পর্যন্ত এই নীল গ্রহেই পাওয়া গেছে । আর প্রত্যেকটি প্রাণীদের জীবনের চারটি অবস্থা আসে । শৈশব, কৈশোর, যৌবন ও বার্ধক্য ; এই চারটি অবস্থার মধ্য দিয়েই প্রত্যেকটি প্রাণীকেই জীবনে চলতে হয় । এক-একটা অবস্থায় এক-এক রকম জীবন নির্বাহ করতে হয় ।

মাতৃ গর্ভের থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর আমাদের শৈশব শুরু হয় । ঠিক জন্মের আগে আমরা এক আলাদা পরিবেশ ও দুনিয়ার মধ্যে ছিলাম । জন্মের পর একদমই আলাদা এক পরিবেশে আমরা এসে উপস্থিত হই । এই নতুন দুনিয়ার আমরা তখন কিছুই জানি না । শৈশবে আমরা সব কিছুই করতে অপারগ থাকি ।

শৈশবকাল থেকেই আমাদের শুরু হয়ে যায় শিক্ষার পাঠ । প্রথমে মা’য়ের কাছ থেকে একটার পর একটা শিক্ষা গ্রহণ করতে থাকি । স্নেহ-মমতা-ভালোবাসায় মা তার সন্তানকে এই দুনিয়ায় চলার মতো শিক্ষা দিতে থাকেন । প্রথমেই খাওয়া তারপর হাটা-চলা এরপর কথা বলা আমরা শিখি শৈশবে । এরপরই আমরা স্বনির্ভর হয়ে একা চলতে থাকি নতুন দুনিয়ায় ।

শৈশবে আমরা কিছু ঘরোয়া খেলা শিখে নিজেকে মনোরঞ্জন করি । এই অবস্থায় সবার কাছে আদর ও ভালোবাসা যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যায় । কথায় বলে, যে শিশুদের ভালোবাসে না সে অমানুষের পর্যায়ে পড়ে । শিশুদের আধো-আধো কথা ও মুখের হাসি কে না ভালোবাসে ? শিশুরা ফুলের মতো কোমল ও সুন্দর হয় ।

শৈশবে সবচেয়ে কষ্টকর বিষয় হলো যখন পড়াশোনা শুরু হয় । কিছু-কিছু শিশু পড়াশোনা করতে ভালোবাসে, তবে বেশিরভাগ শিশুরাই পড়াশোনা করতে চায় না ছোট বেলায় । অনেক কষ্টে ও ধৈর্য নিয়ে শিশুদের পড়াশোনা শেখানো হয় । কেননা পড়াশোনা না শিখলে জীবনে উন্নতি ও অগ্রগতি করতে পারবে না আগামীতে আজকের শিশু ।

তবে শৈশব অবস্থা হলো মানুষের জীবনে সবচেয়ে সুন্দর ও ভালো সময় । কেননা এই সময়ে কোন কাজ করতে হয় না আবার কোন কর্তব্য বা দায়িত্বও থাকে না । যা চাওয়া যায়, তাইই পাওয়া যায় । বিপদে-আপদে, সময়-অসময় সবসময় মা কিংবা কেউ না কেউ পাশে থাকে । তাই ভয়ের কোন কারণ থাকে না । শৈশবের দিনগুলো সবার আদর আর খেলাতেই ভালোভাবে কেটে যায় ।

শৈশবে আমাদের মন এতটাই নিষ্পাপ থাকে যে, কোনটা ভালো কিংবা কোনটা মন্দ সেটা বুঝতে পারি না । সেই জন্যই কাঁচা লঙ্কা কিংবা কোন ছোট পোকামাকড় হাতের কাছে পেলেই ধরে মুখের মধ্যে পুড়ে দিই । আগুনেও হাত দিতে ভয় পাই না । কিংবা গতিশীল রাস্তায় কিছু না ভেবে-চিন্তেই পার হয়ে যাই । এগুলো কোন সাহসের জন্য নয় ; অজ্ঞতার জন্যই করে থাকি ।

তবে শৈশবের আনন্দ প্রত্যেকটা শিশু নিতে পারে না । অনেকেই দারীদ্রতার জন্য কঠোর বাস্তবের মুখকে শৈশবেই দেখতে হয় । অনেকে আবার মা’কে কিংবা মা-বাবা দু’জনকেই শৈশবেই হারিয়ে ফেলে । তার শৈশব দুর্বিষহ হয়ে ওঠে । তারাই ভাগ্যবান যারা শৈশবে মা-বাবা দু’জনকেই কাছে পায় সব সময় । আর তাদের শৈশব আনন্দময় হয়ে ওঠে । এই শৈশব থেকেই আমাদের জীবনের দিক নির্দেশ হয়ে যায় যে, আগামীতে আমরা কে কি হবো ?

*********

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top