Sudip Ghoshal

  • বর্ষায় ভূতের গল্প
  • # ভৌতিক কান্ড
    সুদীপ ঘোষাল
    অজয় আজ তার মোটর বাইকের চাবিটা খুঁজে পাচ্ছে না। সারা বাড়ি তন্ন তন্ন করে খোঁজার পরে দেখলো একটা লোক দোতলার ঘরে সিলিং ফ্যানে ঝুলছে। তার পকেট হাতড়ে খুঁজে পেলো বাইকের চাবিটা। আজ ভ্যালেন্টাইনস ডে। আজকে রিয়াকে নিয়ে মায়াপুর যাবে। গতকাল রিয়াকে সন্টুর বাইকের পিছনে দেখে পাগল হয়ে গেছিলো। মরতেও গেছিলো। আজ চাবিটা নিয়ে ছুটে চলেছে রিয়ার কাছে। সন্টুর আগে তাকে পৌঁছতে হবে প্রেমিকার কাছে। আজ বেশ হাল্কা লাগছে নিজের শরীরটা। অজয় মনে মনে ভাবলো,প্রেম বেশ জটিল ব্যাপার। রিয়াকে আজ গাড়িতে চাপিয়ে বেশ মজা করে ঘুরে বেড়াবে। মানুষ ছাড়া গাড়িটা চলতে দেখে অনেকে ভয়ে পালিয়ে গেলো। রিয়া আর সন্টু দেখলো,বাইকটা ছুটে আসছে তাদের দিকে ঝড়ের গতিতে…
    ঝিনুকঘাটার জঙ্গলে বেড়াতে গেছিলাম গরমের ছুটিতে। সেখানে একটা খড়ের চালের ঘরে রাতবাস করেছিলাম।হঠাৎ রাতের বেলা বাথরুম যাওয়ার প্রয়োজন হলো। বাথরুম বলতে চটের আড়াল দেওয়া বেড়ার ঘর।অজানা এক ঝোড়ো হাওয়া এসে চট উড়িয়ে নিয়ে ফেললো দূরের পুকুরে। আমার দুই বন্ধু বললো,অই দেখ জঙ্গলে একটা গরু, কেমন দুটো পা উপরে তুলে মানুষের মতো নাচ করছে। আমি বললাম,যাঃ,ও, কেউ ভয় দেখাচ্ছে।আমার কথার উত্তরে গরুটা বিড়াল হয়ে গেলো। তারপর মানুষের মতো দাঁত বের করে হাসতে লাগলো।বন্ধু ভয়ে বু বু করতে লাগলো। ওর আর বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হলো না।ওখানেই দুস্কর্ম করে ফেললো ভয়ে।আমি বললাম,ওই দেখ বিড়ালটা আবার কুকুর হয়ে গেলো। তারপর ঘেউ, ঘেউ করতে করতে আমাদের পিছনে ছুটতে লাগলো। আমরাও প্রাণপণে ছুটতে শুরু করলাম। ভুলে গেলাম ঘরবাড়ির কথা। আমি না ছুটে জঙ্গলের আড়ালে বসে পরলাম। তারপর একটা লোক এসে বন্ধুদের বললো,কি ব্যাপার ছুটছেন কেন? আমি শুনতে পেলাম বন্ধুরা  বলছে,কুকুরে তাড়া করেছে। লোকটা বললো,কই,কুকুর তো দেখছি না। বন্ধু বললো,এখানেই ছিলো। তারপর সে বললো,দেখুন তো এই কুকুরটা কি না? লোকটা উধাও। তার জায়গায় আবার একটা কুকুর।কুকুরের মুখটা বড় হতে শুরু করলো। দুই বন্ধুর গলা কামড়ে ধরে বড় কুকুরটা ঝুলে পরলো।তারপর রক্ত চুষে খেতে লাগলো রক্তচোষা বাদুড়ের মতো।কুকুরটার ভয়ংকর মূর্তি দেখে আমি অজ্ঞান হয়ে গেলাম।
    পরের দিন সকালে যখন জ্ঞান ফিরলো তখন দেখলাম,আমার বন্ধুদের লাশ  ঘিরে অনেক মানুষের ভিড়। দুটো মানুষের লাশ। আমি সে যাত্রা বেঁচে গেলেও বন্ধুদের না পেয়ে মর্মাহত হলাম।তারপর ঠিক দুপুরবেলায়, দেখলাম,ঘেউ ঘেউ করতে করতে দুটো কুকুর, সেই বড় কুকুরটার সঙ্গে চলেছে, অন্য শিকারের সন্ধানে।আরও দুটো কুকুর কোথা থেকে এলো।
    আমাকে আদিবাসী একজন বললো,পালিয়ে যা ঐখান থিকে। তা না হলি তোকেও কুকুর হতে হবে আজ রেতের বেলা।ওর কথা শুনে আমি লাগেজ পিঠে নিয়ে দেখি,একটা বড় কুকুর আমার দিকে আড়চোখে একবার চাইলো।রক্তবর্ণের সেই চোখ।মুখে রক্তের ছাপ।
    সেই ভয়ংকর রক্তবর্ণের চোখ দুটো আজও ভুলতে পারিনি…

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top