Sutapa Banerjee(Roy)

শিরোনাম-রোজগেরে
কলমে-সুতপা ব‍্যানার্জী(রায়)

শিয়ালদা স্টেশনের সাবওয়ে দিয়ে যেতে যেতে শুভ বলে উঠল-“দিলি তো পিছু ডেকে, যাচ্ছি একটা শুভ কাজে।”
যাকে উদ্দেশ্য করে বলা সেই শ‍্যাম ভিখিরি উত্তরে সঙ্কুচিত হয়ে-“যান, যান, দাদা আর পিছু ডাকব না।”
নতুন যাত্রীদের দিকে তাকিয়ে-” দেবেন নাকি দুটো পয়সা-
বাবুরা, কাকু, কাকিমা, দাদা, দিদিরা, গরিবকে দেখলে ভাল হবে আপনাদের, দয়া করে দিয়ে যান কিছু।”
বেশীর ভাগই অতি ব‍্যস্ততায় পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছিল, কেউ বা তাচ্ছিল্যভরে তাকিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল। পরের গাড়ি ধরার তাড়ায় কেউ কেউ ছুটছিল, তাকাবার সময়টুকুও নেই। দু-চারজন কলেজ ছাত্রী, ছোট পার্স বার করে দিচ্ছিল দু-চার টাকা। স্টেশনের চাওয়ালা বেচারাম শ‍্যামকে ফ্রিতে এক ভাঁড় চাও খাওয়াল। ঠান্ডায় এককোণে জড়সড় হয়ে বসে শ‍্যাম ভিখিরির এই হল প্রতিদিনের রোজনামচা। দূর থেকে সুবেশী এক মহিলাকে দেখে শ‍্যাম আগ্রহ ভরে গুছিয়ে ভিক্ষাপাত্রটা এগিয়ে ধরে,-” গরিবকে একটু দেখবেন কর্তা মা।”
“কে কর্তা মা”- ঝাঁঝিয়ে ওঠে মহিলা, শ‍্যাম অনুনয়ভরে বলল-” আপনারা না দেখলে আমরা কোথায় যাব বলুন?”
“কেন, খেটে খেতে পার না, বসে বসে ভিক্ষে করে অন‍্যের
দয়ায় খাও”-বলেই মহিলা এগোতে গেলে শ‍্যাম তার কাটা দু পা বের করে বলে উঠল-“খেটেই তো খাচ্ছিলাম, হকারি করতাম ট্রেনে, এ ট্রেন ও ট্রেন করতে গিয়ে একদিন পড়ে গেলাম এক ট্রেনের তলায়, সেই থেকে এই অবস্থা, কাটা পা নিয়ে কি কাজ করব? লোক ঠকিয়ে তো আর খেতে পারি না, তাই… পরিবারকেও তো বাঁচাতে হবে, বাচ্ছারা ছোট ছোট।” মহিলা ন যযৌ ন তস্থৌ অবস্থায় একটা পঞ্চাশ টাকার নোট এগিয়ে দিল শ‍্যামের দিকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top